Nation আসলে কী?
একটি জাতি আসলে কি? এটি একটি কল্পনা, যা বাস্তবতার চেয়েও শক্তিশালী। বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন তার অন্যতম কাজ “Imagined Communities” (১৯৮৩) এ একটি মূল্যবান ধারণা উপস্থাপন করেছেন: জাতি একটি “কল্পিত রাজনৈতিক সম্প্রদায়”—এটি কল্পিত, কিন্তু এর অর্থ মিথ্যা নয়। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মাঝে যে সংযোগ বিদ্যমান, সেটাই ব্যাখ্যা করা সম্ভব এই কল্পনার মাধ্যমে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, একজন পোস্টকলোনিয়াল তাত্ত্বিক, এন্ডারসনের তাত্ত্বিকতার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন যে এই তত্ত্ব মূলত ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে গঠিত। উপনিবেশিক প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদের যে বিশেষ গতিশীলতা ছিল—যেমন ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ এবং অ্যান্টি-কলোনিয়াল সংকল্পসাধন—এসব বিষয় এন্ডারসনের কাঠামোতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। ১৯৫২ সালে যখন বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্ররা ভাষার জন্য প্রাণ দেন, সেটা কেবল প্রিন্ট পুঁজিবাদের ফলাফল ছিল না—বলে দেওয়া হতে পারে যে এটি সাংস্কৃতিক টিকে থাকার জন্য এক মুক্তিযুদ্ধ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা এসেছে নারীবাদী ইতিহাসবিদদের পক্ষ থেকে। এন্ডারসনের “অনুভূমিক ভ্রাতৃত্ব” ধারণাটি মূলত একটি পুরুষালী, লিঙ্গভিত্তিক ধারণা। ভাটি দেশের “মা” বলার পরও, জাতীয় কাহিনীতে নারীদের ভূমিকা প্রায়ই উপেক্ষিত হয়ে যায়। ১৯৭১ সালে প্রায় দুই লক্ষ নারী যুদ্ধকালীন ধর্ষণের শিকার হন—তবে ডাটা এবং ইতিহাসের আলোচনায় তাদের অবদান প্রায়শই চিহ্নিত হয় না। তাই ঢালাও ভাবে আপনি জাতীয়তাবাদকে এক কাতারে ফেলতে পারবেন না। স্থান ভেদে, ঘটনা ভেদে, উৎস ভেদে জাতীয়তাবাদ তার নিজস্ব রুপ নিয়ে আসে।
আধুনিক Nationalism-এর জন্ম: French Revolution এবং তার পরবর্তী
১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবকে আধুনিক জাতীয়তাবাদের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর আগে, মানুষের আনুগত্য ছিল রাজা, ধর্ম অথবা স্থানীয় প্রভুটির কাছে। তবে ফরাসি বিপ্লব একটি বিপ্লবী চিন্তাভাবনা পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল: রাষ্ট্রের ক্ষমতা এখন জনগণের হাতে, ঈশ্বরের অধিকার থেকে নয়। “Le sujet” (বিষয়) পরিণত হল “le citoyen” (নাগরিক) এ। “L’état” (রাষ্ট্র) বদলে গেল “la nation” (জাতি) তে।
Tricolor পতাকা, Marseillaise গান, Marianne-এর মূর্তি—এসব কিছুই কেবল প্রতীক নয়, বরং একটি নতুন সম্মিলিত পরিচয়ের শারীরিক প্রকাশ। যখন নেপোলিয়ন তার সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন ইউরোপ জুড়ে, তিনি শুধু এলাকা জয় করেননি; বরং জাতীয়তাবাদের ধারণা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি দখল করা অঞ্চলে একটি প্রতিক্রিয়াশীল জাতীয়তাবাদ উদিত হয়েছিল।
এরিক হবসবওয়াম এবং টেরেন্স রেঞ্জার তাদের “The Invention of Tradition” (১৯৮৩) নামক বইতে দেখিয়েছেন যে অনেক “প্রাচীন” জাতীয় প্রথা আসলে নতুন উদ্ভাবন।
কিন্তু এখানে Anthony D. Smith-এর ethnosymbolism একটি counter-argument দেয়। Smith বলেন, হ্যাঁ nations modern, কিন্তু তাদের pre-modern ethnic foundations আছে। প্রতিটি nation-এর একটি ethnic core আছে—shared myths, memories, symbols—যা centuries ধরে develop হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ শুধু ১৯৪৭ বা ১৯৭১-এ তৈরি হয়নি—এর roots আছে বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে যা centuries পুরনো।
মনোবিজ্ঞান: কেন আমরা “আমরা” এবং “ওরা” তে বিভক্ত হই?
জাতীয়তাবাদী মনোবিজ্ঞানের প্রভাব কতখানি তা বের করতে হলে আমাদের হেনরি তাজফেল এবং জন টার্নারের সামাজিক পরিচিতি তত্ত্ব বা Social Identity Theory (১৯৭৯) বুঝতে হবে। এই তত্ত্বটি তিনটি মূল ধারণার ওপর ভিত্তি করে:
১. সামাজিক শ্রেণীবিভাগ: মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের এবং অন্যদের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে। আমরা, ওরা; বাঙালি, অবাঙালি; মুসলিম, হিন্দু। এই শ্রেণীবিভাগ আমাদের জটিল সমাজকে সহজভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।
২. সামাজিক পরিচিতি: একবার যখন আমরা একটি গোষ্ঠীতে নিজেদেরকে স্থানান্তরিত করি, সেই গোষ্ঠী আমাদের আত্ম-ধারণার একটি অংশ হয়ে যায়। যেমন, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জেতে, আমরা সবাই নিজেদেরকে “আমরা” হিসেবে চিহ্নিত করি। আর যখন ভারতর কাছে হারে, তখনো আমরা “আমরা” হিসেবে সেটিকে অনুভব করি। এই আবেগিক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত প্রবল।
৩. সামাজিক তুলনা: গোষ্ঠীগুলি নিজেদেরকে অন্য গোষ্ঠীর সাথে তুলনা করে ইতিবাচক স্ব-সম্মান অর্জন করতে চেষ্টা করে। “আমরা তাদের চেয়ে ভালো”—এই অনুভূতি মানুষের জন্য মানসিকভাবে ফলপ্রসূ।
তাজফেলের “minimum group Studies” দেখিয়েছে যে, গোপনীয় বা অল্প সংখ্যক শর্তে গোষ্ঠী বিভক্তি হলেও মানুষ সেটা আলাদাভাবে অনুভব করে এবং নিজেদের মধ্যে পার্থক্য খোঁজে।
এই মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটিই জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব স্বাভাবিকভাবেই বাইরের গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত তৈরি করে। “আমরা ভালো” থেকে খুব সহজেই “ওরা খারাপ” কথায় উপনীত হওয়া যায়। এটাই হলো মানবিক অবমাননা, বিদেশী বিরোধিতা এবং শেষবারের জন্য সহিংসতার সূচনা।
Pew Research-এর তথ্য নির্দেশ করে যে অর্থনৈতিক সংকট বা নিরাপত্তার হুমকি সময়ে জাতীয়তাবাদী অনুভূতি বৃদ্ধি পায়। গ্রীসে ৮২% মানুষ কম অভিবাসন চায়। অনেক ইউরোপীয় দেশে জনতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদী পার্টিগুলো শক্ত হয়ে উঠেছে। এটি কোনো কালচারাল ব্যাপার নয়—এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া। যখন মানুষ নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে, তখন তারা আরো জোরালোভাবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর সাথে পরিচিতি স্থাপন করে।
Dark Side: যখন Nationalism হয়ে ওঠে Genocide-এর হাতিয়ার
ইতিহাসে অনেক ভয়ঙ্কর অন্যায় সংঘটিত হয়েছে জাতীয়তাবাদীর নামের আড়ালে। ১৯৩০-৪০-এর দশকে হিটলারের নাৎসি জার্মানির ফলে ঘটে যায় হলোকাস্ট, যেখানে মারা যায় ৬০ লক্ষ ইহুদী। এরপর ১৯৯৫ সালে সার্বিয়ার স্রেব্রেনিসায় ৮,০০০ বোসনিয়ান মুসলমান নির্মমভাবে খুন করা হয়। ১৯৯৪ সালে রিউয়ান্ডার ১০০ দিনের গণহত্যায় ৮ লক্ষ তুত্সি এবং মডারেট হুতু প্রাণ হারান।
সাম্প্রতিক এবং নথিভুক্ত একটি উদাহরণ হল রোহিঙ্গা গণহত্যা (২০১৬-২০১৮)। মিয়ানমারের বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী প্রবাহ অনুযায়ী, রোহিঙ্গা মুসলমানদের “অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী” হিসেবে দেখানো হয়, যারা “বৌদ্ধ জাতির” জন্য হুমকি। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন দ্বারা তাদের অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়, যা কার্যত তাদের আইনগত অস্তিত্বকে অস্বীকার করে। ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হয়, যার প্রথম মাসেই ৬,৭০০ এর বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি গণধর্ষণ, গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া এবং শিশু হত্যা হয়—এটি ছিল একটি পরিকল্পিত এবং সংগঠিত কার্যক্রম। ৭ লক্ষ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়, ফলে কক্সবাজারে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির গঠিত হয়। যুগোপযোগী ভঙ্গিতে, জাতিসংঘ এটি “জাতিগত নির্মূলের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ” হিসাবে চিহ্নিত করেছে এবং ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র এটি আনুষ্ঠানিকভাবে “গণহত্যা” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এছাড়াও বহুল আলোচিত ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্, গাজা যুদ্ধও জাতীয়তাবাদের উদাহরণ। এখানে যতটা না পবিত্র ভুমি নিয়ে, তারচেয়ে বেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে।
এখানে আমরা জাতীয়তার সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপের প্রতি দৃষ্টিপাত করছি: জাতীয়তাবাদী জাতীয়তা। যখন জাতীয় পরিচয়টি স্বজাতি, ধর্ম, বা “রক্ত” দ্বারা নির্ধারিত হয়, তখন যারা এই সংজ্ঞার সঙ্গে খাপ খায় না, তারা স্বাভাবিকভাবেই “অন্যান্য” হয়ে যায়। আর “অন্যান্য” কে নির্মূল করা তখন জাতীয় কর্তব্যে পরিণত হয়।
Bright Side: Liberation এবং Self-Determination
কিন্তু জাতীয়তাবাদের একটি মুক্তিদায়ক দিকও রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস প্রতিরোধ, যা ভারতকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, এবং নেলসন ম্যান্ডেলার আফ্রিকান জাতীয়তাবাদ, যে আপার্টেইডকে পরাজিত করেছে, সেইসাথে আমাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধও এর উদাহরণ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মূলত একটি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তার সফলতা। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, যখন পাকিস্তানি পুলিশ বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায়, সেই রক্তাক্ত দিনটি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পশ্চিম পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য অস্বীকার করে। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১—অপারেশন সার্চলাইট—গণহত্যা শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ নারী ধর্ষিত এবং ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হয়। ১৬ই ডিসেম্বরে…
[কিন্তু এখানে আবার একটি সমস্যা বিদ্যমান। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ কতটা কার্যকর রয়েছে? আদিবাসী জনগণ—যেমন চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা—তারা কি সত্যিই সেই “বাঙালি” পরিচয়ে নিজেদের খুঁজে পান? ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কি সত্যিকার অর্থেই সমান নাগরিক বলে বিবেচিত হন? বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে যে টানাপড়েন রয়েছে, সেটি আসলে নাগরিক ও জাতিগত জাতীয়তাবাদের মধ্যে একটি বিতর্ক।]
Contemporary Crisis: ২১ শতকের Nationalism
বর্তমান সময়ের জাতীয়তাবাদ নতুন এক রূপ গ্রহণ করছে। Brexit (২০১৬) দেখিয়েছে কীভাবে পপুলিস্ট জাতীয়তাবাদ বৈশ্বিক সংহতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। “Take back control” শ্লোগানের পিছনে ছিল অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব ও হারানো সার্বভৌমত্বের আতঙ্ক। ৫২% ব্রিটিশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন প্রবীণ, কম শিক্ষিত এবং গ্রামীণ এলাকা থেকে।
ইউরোপ জুড়ে ডানপন্থী পপুলিস্ট দলগুলো—যেমন মারিন লে পেন (ফ্রান্স), আল্টারনেটিভ ফিউর ডয়চল্যান্ড (জার্মানি) ও ভিক্টর অরবান (হাঙ্গেরি)—শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তাদের বক্তব্য প্রায় একই: “আমাদের জাতির জন্য শঙ্কা রয়েছে। অভিবাসীরা আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংস করছে। গ্লোবালিস্ট এলিটরা আমাদের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিচ্ছে।”
কিন্তু এখানে একটি প্রকাণ্ড বৈপরীত্য বিদ্যমান। বর্তমানের সবচেয়ে বড় uitdagingen—जलवायु পরিবর্তন, মহামারি, অর্থনৈতিক বৈষম্য—এগুলো এমন বৈশ্বিক সমস্যা, যা সমাধানের জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয়তাবাদ এই সহযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
আবহাওয়া পরিবর্তন এবং জাতীয়তাবাদীর মধ্যে সংঘর্ষটি অত্যন্ত গুরুতর। পৃথিবীর একটিমাত্র বায়ুমণ্ডল রয়েছে—যেকোনো দেশের কার্বন নির্গমন যতই বেশি হোক, এর প্রভাব বিশাল পরিসরে পড়ে। তবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি “আমার দেশ আগে” মেন্টালিটিকে উৎসাহিত করে। ধনী দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়নে সহযোগিতা করতে তেমন ইচ্ছুক নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ, ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে একটা সমঝোতার ঘটনাও ঘটছে না। এর ফলস্বরূপ, প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য দৃষ্টিসংশয়সাধন হচ্ছে। ফলে, পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হতে থাকে। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি পেতে হয় ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলো—যেমন বাংলাদেশ, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন একটি অস্তিত্বের সংকটে পরিণত হয়েছে।
কিছু গবেষক “সবুজ জাতীয়তাবাদ” ধারণাটি নিয়ে আলোচনা করছেন, যেখানে জাতীয় গৌরব এবং জলবায়ু কার্যক্রম একসাথে মিলিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোস্টারিকা তার শক্তির ৯৯% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে গ্রহণ করে এবং এটি তাদের জাতীয় পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি যথেষ্ট? অথবা কি এটি মূলত একটি প্রতিযোগিতামূলক জাতীয়তাবাদ, যা বৈশ্বিক ঐক্যের বদলে জাতীয় প্রতিযোগিতার দিকে ধাবিত হচ্ছে?
The Digital Age: Nationalism 2.0
সামাজিক মিডিয়া জাতীয়তাবাদকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে। ফেসবুক, টুইটার এবং হোয়াটসঅ্যাপে জাতীয়তাবাদী বর্ণনাগুলি সেকেন্ডের মধ্যে ভাইরাল হয়ে ওঠে। এখানে ইকো চেম্বার তৈরি হয়, যেখানে মানুষ কেবল তাদের নিজেদের বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করতে দেখে। মিথ্যা তথ্য এবং ভূয়া খবরা-খবর জাতীয়তাবাদকে উসকানি দেয়।
২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে এক সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মুসলিম নিহত হন। হামলাকারী তার মনিফেস্টো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন, যা ছিল সাদা জাতীয়তাবাদী আইডিয়োলজিতে পূর্ণ। এ হামলাটি লাইভ-স্ট্রিম করা হয়েছিল, যা দেখায় কিভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি চরম জাতীয়তাবাদকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
তবে, অপরদিকে ডিজিটাল সংযুক্তি এক ধরনের বৈশ্বিক সম্মাননা তৈরি করছে। জেনারেশন জেড অনেক কম প্রথাগত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তারা কে-পপ শোনে, অ্যানিমে দেখে এবং গ্লোবাল বন্ধুদের সাথে অনলাইন গেম খেলে। তারা জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নেয় এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকে সমর্থন করে। এটি কি একটি পোস্ট-জাতীয়তাবাদী ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
তাহলে উত্তর কী? Nationalism ভালো না খারাপ?
এটি একটি ভুল প্রশ্ন। জাতীয়তাবাদ ভালো না খারাপ—এটি আসলে একটি সরঞ্জাম। সমস্যাটা হল, কে এটি ব্যবহার করছে, কিভাবে, এবং উদ্দেশ্য কী।
সিভিক ন্যাশনালিজম যা ভাগ করা মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক নীতিমালা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্বের উপর ভিত্তি করে—এটি ইতিবাচক হতে পারে। যখন জাতীয়তাবাদ মানে হয় সম্মিলিত দায়িত্ব, সামাজিক একতার অনুভূতি, এবং গণতান্ত্রিক আত্ম-নির্ধারণ, তখন এটি গঠনমূলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে, এথনিক ন্যাশনালিজম যা রক্ত, ধর্ম, এবং বিচ্ছিন্নতার উপর নির্ভর করে—এটি সর্বদা বিপজ্জনক। যখন জাতীয়তাবাদ “বিশুদ্ধ জাতি”, “আমরা বনাম তারা”, এবং “অন্যান্যদের বিলুপ্তি” এর ধারণাকে ধারণ করে, তখন এটি গণহত্যার রূপ ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আসে যখন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে অনুসরণ করা যায়; এটি ছিল মুক্তির জাতীয়তাবাদ—অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক, এবং ধর্মনিরপেক্ষ। কিন্তু পরবর্তী দশকগুলোতে যখন ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের রাজনীতি প্রবল হয়ে উঠেছে, তখন সংখ্যালঘুরা মার্জিনালাইজড হয়ে পড়েছে।