Attention Economy: দিনে ৮০ বার ফোন চেক করে আপনি যে ট্রিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রি চালাচ্ছেন | Bangladesh

বলা হয় অর্থনীতি মানুষের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামষ্টিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, এমনকি সামাজিকভাবেও এর অবস্থান অনেক শক্ত। এ অর্থনীতির রয়েছে অনেক শাখা। কিন্তু,  একটি শাখা যে কিনা সে-ই বহুত আগে থেকে অতলে ছিল, যাকে কিনা অর্থনীতিবীদরাও তেমন কিছু ভাবেন নি, হয়তো ভাবার চেষ্টাও করেন নি। সে-ই শাখাটা, ধীরে ধীরে এমন এক অদৃশ্য অর্থনীতি হয়ে উঠলো, যা এখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের মনোযোগ,  সময়, আর ফোকাস।

চিন্তা করুন তো, আপনার সাথে এ কাজগুলো যায় কিনা?  সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন চেক করা। নাস্তা করতে করতে Instagram/ faceboom scroll করা। কাজের ফাঁকে Facebook notifications দেখা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেকবার TikTok/ YouTube -এ হারিয়ে যাওয়া। কি, মিলছে?  এই যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা সাধারণ চিত্র, অথচ এর পেছনে লুকিয়ে আছে একটা বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামো—যার নাম Attention Economy। যাকে এতদিন কেউ কোন তেমন গুরুত্ব দেয়নি, ফুটে উঠেনি আমাদের বইপত্রে বা শিক্ষাজীবনে। আজকে দেখবো, কিভাবে Attention economy কাজ করে

কীভাবে মনোযোগ হয়ে উঠলো মুদ্রা ?

আমরা হয়তো ভাবি, আমরা বিনামূল্যে Facebook, Instagram, YouTube ব্যবহার করছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা কিছু দিয়েই এসব পরিশোধ করছি—আমাদের মনোযোগ দিয়ে। আর এই মনোযোগই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।এবং Attention economy তে এটাই হলো মুদ্রা। 

১৯৭১ সালে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ Herbert A. Simon একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন: “তথ্যের প্রাচুর্য মনোযোগের দারিদ্র্য সৃষ্টি করে।” তখন হয়তো কেউ ভাবেনি যে এই কথাটি একদিন একটি পুরো অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠবে।

ভাবুন তো, আজ থেকে তিরিশ বছর আগে মানুষের কাছে তথ্যের অভাব ছিল। একটা খবর জানতে হলে পত্রিকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো, বই পড়তে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো। কিন্তু এখন? প্রতি মিনিটে YouTube-এ ৫০০ ঘণ্টার video আপলোড হয়। প্রতিদিন Facebook-এ শেয়ার হয় ৪ বিলিয়ন content। Twitter-এ প্রতি সেকেন্ডে পোস্ট হয় হাজারো tweet।

তথ্যের এই বন্যায়, আমাদের মনোযোগ হয়ে গেছে সবচেয়ে দুর্লভ সম্পদ। একটা মানুষ দিনে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা জাগ্রত থাকতে পারে। তার মধ্যে হয়তো ৫-৬ ঘণ্টা সে screen-এর সামনে কাটায়। এই ৫-৬ ঘণ্টায় সে কোন app খুলবে, কোন content দেখবে, কোন ad-এ ক্লিক করবে—এই সিদ্ধান্তগুলোই এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

মনোযোগের অর্থনীতি: একটি নতুন যুগ

Attention Economy আসলে প্রচলিত অর্থনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কিছু নয়, বরং এটি তার একটি বিবর্তিত রূপ। কৃষি অর্থনীতি থেকে শিল্প অর্থনীতি, তারপর তথ্য অর্থনীতি—এই ধারাবাহিকতায় এখন এসেছে Attention Economy।

তবে এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। প্রচলিত অর্থনীতিতে আমরা টাকা দিয়ে পণ্য কিনি। কিন্তু Attention Economy-তে আমরা আমাদের মনোযোগ দিয়ে ‘বিনামূল্যে’ সেবা ব্যবহার করি। এখানে আমরা ভোক্তা নই, আমরা নিজেরাই পণ্য। আমাদের মনোযোগ, আমাদের data, আমাদের behaviour patterns—এগুলোই বিক্রি হয় বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে।

২০১০-এর দশকে social media এবং smartphone-এর বিস্ফোরণ এই অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ গড়ে একজন মানুষ দিনে ৮০ বার তার phone check করে। প্রতিদিন Facebook-এ কাটায় ৩০ মিনিট, Instagram-এ প্রায় দ্বিগুণ। এই সময়টা ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু ২৫০ মিলিয়ন মানুষের ৩০ মিনিট মিলে যখন একটা বিশাল সংখ্যা দাঁড়ায়, তখন তা হয়ে ওঠে অকল্পনীয় মূল্যবান।

Attention Economy representation

কোম্পানিগুলো কীভাবে আমাদের মনোযোগ ‘হাইজ্যাক’ করে

Social media platforms-এর ব্যবসায়িক মডেল খুবই সরল: আমাদের যত বেশি সময় ধরে রাখা যাবে, তত বেশি আমাদের কাছে ads দেখানো যাবে, তত বেশি লাভ। এজন্য তারা ব্যবহার করে অত্যাধুনিক psychological tricks এবং AI algorithms।

Infinite Scroll: আপনি কখনো লক্ষ করেছেন, Facebook বা Instagram-এ scrolling করতে করতে শেষ পাওয়া যায় না? এটা কোনো accident নয়। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোনিতভাবে এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে আপনার কোনো natural stopping point না থাকে।

Notifications: Smartphone গুলোতে একটা বিষয় আছে। নোটিফিকেশন আসলে তা আপনার হোমস্ক্রিনে আ্যাপগুলোতে লাল ডট, না হয় Badge count হিসেবে দেখায়। খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই,  যখনি আপনার চোখে এটা পড়ে, বেশিরভাগ সময়ই আপনাকে বাধ্য হতে হয় চেক করার জন্য।  সেই লাল dot, badge count, vibration—এগুলো আমাদের মস্তিষ্কের reward system-কে trigger করে। প্রতিবার notification আসলে আমাদের মস্তিষ্ক dopamine release করে, যা আমাদের আরও check করতে উদ্বুদ্ধ করে। আপনি চাইলে সেটিংস এ গিয়ে এসব অফ করতে পারেন। কিন্তু আপনি তা করেন কি?

Algorithm Magic: মনে করুন আপনি একটা ফুটবল ম্যাচের ১৫ সেকেন্ডের একটা Clip দেখেছেন, এরপরে আপনি যত scroll করেন, ততবেশি ফুটবল ম্যাচ এবং এ রিলেটেড অন্যান্য কনটেন্ট আসতেই থাকে। অবাক হলেন? এটাই আপনাকে হুক করে রাখার পদ্ধতি। আর এ কাজটা করে AI Algorithm. কিভাবে?  AI algorithms শিখে নেয় আমরা কী ধরনের content পছন্দ করি। কোন post-এ আমরা বেশি সময় দেই, কোন video শেষ পর্যন্ত দেখি, কোন comment-এ react করি। তারপর সেই অনুযায়ী আমাদের feed customize করে। লক্ষ্য একটাই—আমাদের engaged রাখা।

এবং এই strategy কাজ করছে অসাধারণভাবে। ২০২৪ সালে শুধুমাত্র Meta (Facebook এবং Instagram-এর মালিক) বিজ্ঞাপন থেকে আয় করেছে ১৬০.৬ বিলিয়ন ডলার। Google-এর Alphabet আয় করেছে ২৬৪.৬ বিলিয়ন ডলার। YouTube একাই আয় করেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। শুধু মনোযোগ বিক্রি করেই।

আমরা কীভাবে বদলে যাচ্ছি ?

Attention Economy শুধু কোম্পানিগুলোর জন্যই লাভজনক নয়, এটি আমাদের—ব্যক্তি হিসেবে, সমাজ হিসেবে—fundamentally বদলে দিচ্ছে।

আমাদের মনোযোগ ক্ষীণ হচ্ছে: একবার কোনো কাজে বিঘ্নিত হলে পুনরায় concentration ফিরে পেতে লাগে ২০ মিনিটেরও বেশি সময়। কিন্তু আমরা দিনে ৮০ বার phone check করি। মানে, আমরা আসলে কখনোই properly focused থাকতে পারছি না। ফলে আমরা আমাদের আসল কাজ থেকে দূরে সরে আসছি। 

Mental Health Crisis: Social media addiction এখন একটা স্বীকৃত mental health issue। বিশেষ করে teenagers এবং young adults-দের মধ্যে anxiety, depression, low self-esteem-এর হার dramatically বেড়েছে। একজন student-এর কথায়, “আমরা একা অনুভব করি যদি আমরা social media-র বাইরে থাকি।” এই Fear of Missing Out (FoMO) একটা constant stress তৈরি করছে। মনে হয়, আপনি কিছু একটা মিস করেছেন,  মানে আপনি পিছিয়ে পড়েছেন। এ ভয়টা আমাদের আরো বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আ্যাডিকটেট করে তুলে।

আমাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন: Long-form content পড়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।  অনেকে বই পড়াও ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি bite-sized information-এ। TikTok-এর ১৫ সেকেন্ডের video, Instagram reels, Twitter-এর ২৮০ characters—এই সংক্ষিপ্ততায় আমরা আটকে যাচ্ছি। ফলে আসল নলেজটুকু আমরা পাচ্ছি না। 

Consumer Behaviour পরিবর্তন: আমরা এখন যা কিনি, তার ৭৬% কোনো না কোনোভাবে social media দ্বারা প্রভাবিত। Gen Z-রা এখন Google-এর চেয়ে বেশি TikTok এবং Instagram-এ গিয়ে product খোঁজে। Influencer marketing একটা বিশাল industry হয়ে উঠেছে। আপনি হাজার চাইলেও এটা অস্বীকার করতে পারবেন না আপনার পরনের পোশাক, হাঁটাচলা কোন কোন সেলিব্রিটি বা সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত।

Polarization এবং Misinformation: Engagement maximize করতে algorithms প্রায়শই controversial, emotional, বা sensational content promote করে। কারণ এগুলো আমাদের বেশি engage করে। এর ফলে society-তে polarization বাড়ছে, misinformation ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। মিডিয়া মিসইনফরমেশন দিয়ে সহজে বড়বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। আমরা ৫ই আগষ্টের পরে, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের মিডিয়ায় প্রচুর মিসইনফরমেশন দেখিছি। দেখিছি ইসরায়েল ফিলিস্তিন যুদ্ধ নিয়েও।

বাংলাদেশ: একটি উদীয়মান বাজার

বাংলাদেশ Attention Economy-র একটি fascinating case study। দেশে এখন ৭৭ মিলিয়নেরও বেশি internet users, ৫৩ মিলিয়ন social media users। গত এক বছরে social media usage বেড়েছে ২২.৩%—যা বৈশ্বিক গড়ের থেকে অনেক বেশি।

Facebook বাংলাদেশে রাজত্ব করছে ৫৩ মিলিয়ন users নিয়ে। TikTok আসছে দ্রুত গতিতে, ৩৭ মিলিয়ন users নিয়ে। বাংলাদেশের digital advertising market ২০২৫ সালে পৌঁছাবে ১৫৩ মিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৯ সালে হবে ১৭২ মিলিয়ন ডলার।

তবে এখানেও আছে বড় gap। বাংলাদেশের যোগ্য জনসংখ্যার ৩৮.৯% active Facebook users, কিন্তু মাত্র ১৩% SMEs-এর আছে proper digital marketing strategy। অনেক ব্যবসা এখনও traditional marketing-এই আটকে আছে।

বাংলাদেশের strength হলো তার youth demographic। বিশাল সংখ্যক young, mobile-first generation যারা content consume করছে এবং create করছে। Local language content, bilingual posts, short-form videos—এগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। Bangladeshi influencers, content creators international platforms-এ presence তৈরি করছে।

তবে সাবধানতাও জরুরি। যেসব mental health issues, privacy concerns Western countries-এ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো থেকে আমাদের এখনই শিক্ষা নিতে হবে। Digital literacy বাড়াতে হবে, ethical guidelines তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যৎ: কোথায় যাচ্ছি আমরা

Attention Economy কোথায় যাচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি “Immersion Economy”-তে বিবর্তিত হচ্ছে। এখন শুধু attention capture করাই লক্ষ্য নয়, বরং meaningful engagement তৈরি করা।

AI আরও sophisticated হচ্ছে। Personalization আরও deep হচ্ছে। AR এবং VR নিয়ে আসছে নতুন dimensions। Metaverse-এর কথা শুনছি—যেখানে আমরা আরও immersed হবো virtual worlds-এ।

কিন্তু একই সাথে বাড়ছে awareness এবং resistance। মানুষ বুঝতে শুরু করেছে তারা manipulated হচ্ছে। “Digital detox”, “screen time limits”, “mindful social media use”—এই terms এখন mainstream হচ্ছে। কিছু countries এবং organizations নিয়ে আসছে regulations, ethical guidelines।

আমরা কী করতে পারি

Attention Economy থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, আর সেটা লক্ষ্যও নয়। Technology এবং social media-র অনেক positive দিক আছে। কিন্তু আমাদের সচেতন হতে হবে, নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

Individuals হিসেবে আমরা পারি:

– Screen time limit set করতে

– Notification কমাতে

– Mindfully consume করতে, passively scroll না করে

– Quality content-এ focus করতে

– Regular digital detox নিতে

Businesses-দের উচিত ethical marketing practices follow করা। শুধু engagement maximize নয়, value provide করা।

Policymakers-দের দরকার proper regulations, data protection laws, এবং digital literacy programs।

শেষ কথা

Attention Economy একটি reality যা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। এটি তৈরি করেছে unprecedented opportunities—লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন content creator, entrepreneur, influencer হতে পারছে। Information, education, entertainment—সব এখন fingertips-এ।

কিন্তু একই সাথে এটি তৈরি করছে serious challenges। আমাদের attention, আমাদের mental health, আমাদের privacy, এমনকি আমাদের democracy—সব কিছুই প্রভাবিত হচ্ছে।

এই বাজারে আমরা সবাই খেলোয়াড়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি conscious players হবো নাকি passive products? আমরা কি নিয়ন্ত্রণ নেবো নাকি নিয়ন্ত্রিত হবো?

বাংলাদেশসহ developing markets-এর জন্য এটি একটি critical moment। আমরা যদি এখন থেকে সতর্ক হই, ethical frameworks তৈরি করি, digital literacy বাড়াই—তাহলে আমরা Attention Economy-র benefits নিতে পারবো, কিন্তু এর costs এড়াতে পারবো।

মনে রাখতে হবে, মনোযোগ আমাদের নিজস্ব সম্পদ। এটা কীভাবে, কোথায়, কতটা ব্যয় করবো—সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত, আমরা যেখানে আমাদের মনোযোগ দেই, সেখানেই আমরা আমাদের জীবন তৈরি করি।

Previous Post
Next Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *