সংঘাতের সমীকরণ: আধুনিক যুদ্ধের পর্দার ওপারের অর্থনীতি

আমরা সবসময় একটা জিনিস জেনে এসেছি সেটা হল যুদ্ধ ধ্বংস ডেকে আনে। কথাটা মিথ্যা না। যুদ্ধ কাদের জন্য ধ্বংস নিয়ে আসে? নাগরিক সমাজ, অর্থনীতি, জেনারেশন,  অবকাঠামো সহ অনেককিছুর।  কিন্তু লাভ কাদের জন্য নিয়ে আসে? 

এ প্রশ্নটার উত্তর মোটাদাগে এক পক্ষকে দেয়া বা এক পক্ষের উপর ফেলে দেয়া আসলে যায় না। কিন্তু যুদ্ধ শুধু ক্ষতিই নিয়ে আসে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে লাভও নিয়ে আসে। কোন কোন সময় ৩য় দেশের, বা কোন সময় অস্ত্র উৎপাদনকারীর সংস্থা।  আজকে আমরা এর গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করবো। এবং দেখার চেষ্টা করবো, যুদ্ধ আসলে অর্থনীতির উপর কি প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধ মানেই ধ্বংস—এই ধারণাটা আংশিক সত্য। বাস্তবে প্রতিটি যুদ্ধের সঙ্গে কিছু শিল্প, কোম্পানি এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ জড়িয়ে থাকে, যারা সংঘাত থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লাভবান হয়। এই বাস্তবতাই আমাদের নিয়ে যায় war economics বা যুদ্ধ অর্থনীতির ধারণার দিকে।

War economics বলতে বোঝায় এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো, যেখানে একটি দেশের সম্পদ, উৎপাদন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পুনর্বিন্যাস করা হয়। এর ফলে একদিকে সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট ইন্ডাস্ট্রি ও শক্তিগোষ্ঠী লাভবান হয়।

সহজ ভাষায়, যখন একটা দেশ তার পুরো economic system-কে যুদ্ধের জন্য restructure করে, তখন সেটাকে বলে war economy।

যখন কোন দেশে যুদ্ধ লাগে, তখন কিন্তু পুরো দেশ সে যুদ্ধের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নেয়। আপনি শুধু এটা চিন্তা করেন, যে ফ্যাক্টরি জুতা তৈরি করতো, তাকে এখন সেনাদের জন্য বুট তৈরী করতে হবে৷ যে ফ্যাক্টরি খাবার উৎপাদন করতো, তাকে এখন রেশন তৈরি করতে হবে। দেশের অনেক ফ্যাক্টরীকে অস্ত্র উৎপাদন করতে হবে। পুরো দেশের একটা গোটা অর্থনীতি পুরোদস্তর এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যাবে। পুরো দেশ একটা single goal-এ focused – যুদ্ধ জেতা।

কিন্তু এখানে twist টা হলো – এই transformation শুধু production-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটা পুরো society-কে বদলে দেয়।

War Economics এবং আধুনিক যুদ্ধ

যদি যুদ্ধ আসলে অর্থনীতির উপর কিরকম প্রভাব ফেলে তা বুঝতে চান, তাহলে আপনার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৩৯-১৯৪৫ এ সময়টাতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ পুরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির, একটা পরিবর্তন এনেছিল। এ বিশ্বযুদ্ধকে বলা হয় সবচেয়ে ব্যয়বহুল সংঘাত। বর্তমান হিসেবে প্রা্রিলিয়নের বেশি এখানে ব্যয় করা হয়। আমেরিকা এখানে মোট $৩৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। যা সেসময় তাদের GDP ৪০%.  (১৯৪৫ সালের সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী)  এ ছাড়াও বড় বড় এবং প্রধান অর্থনীতির দেশসমূহের মধ্যে, তাদের জাতীয় আয়ের ৫০-৭০% যুদ্ধে মোতায়েন করেছিল।  এর ফল ছিল দীর্ষমেয়াদি। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ইউরোপের কলকারখানা প্রায় সব ধ্বংস হয়ে যায়, ফ্রান্সে মুল্যস্ফীতি ৫০% এর উপর বাড়ে  (১৯৪৫-১৯৪৮) এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুলত আমেরিকা মুলত প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে আসে। 

সামগ্রিক কিছু যুদ্ধ ও তার অর্থনৈতিক পরিনতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী শান্ত হয়ে যায়নি। বরং বেশকিছু সংঘাতের মাধ্যমে গিয়েছে এবং এখনো যাচ্ছে। এখানে উল্লেখযোগ্য হিসেবে কিছু প্রধান যুদ্ধ ও তার পরবর্তী অর্থনীতির বর্ণনা দিচ্ছি। 

ভিয়েতনাম যুদ্ধ : বলা হয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-১৯৭৫) আমেরিকার দীর্ঘতম সামরিক সংঘাত ছিল এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল গভীর ও বহুমাত্রিক।  

এ যুদ্ধে, আমেরিকা সে-সময় মুল্য অনুযায়ী প্রায় $১৬৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে। যা আজকের মুল্যে টাকার অংক হিসেবে দাড়ায় $১ ট্রিলিয়ন৷ এখানে বলে রাখা ভাল আমেরিকার কাছে সেসময় এ যুদ্ধটা বেশ গুরুত্ব লাভ করেছিল। 

এ যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল ভয়াবহ। যুদ্ধকালীন সময়ে বেশ বড় রকমের ইনফ্লেশন দেখা দেয় যা যুদ্ধের পরেও বেশ কিছু সময় বিশেষ করে ১৯৭০ এর দশকে চলমান থাকে। সে সাথে বেকারত্ব বেড়ে যায় এবং শ্রমশক্তি সংকট তৈরি করে কেননা তখন আমেরিকান রা একপ্রকার বাধ্য হয়ে সৈনিক হচ্ছিল। 

সে সাথে আমেরিকার নিজেরও জাতীয় ঋণ বৃদ্ধি পায়।

ভিয়েতনামের অবস্থাও করুন ছিল। বলা হয় সে যুদ্ধে প্রায় ২.৫-৪ মিলিয়ন মানুষ মারা যায় যার অধিকাংশ সিভিলিয়ান। একই সাথে সেসময় ৭ মিলিয়ন টন বোমা ফেলা হয় বলে জানা যায়। (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৩ গুন)

কিন্তু এ যুদ্ধে লাভ হয় কাদের?  কিছু প্রাইভেট কোম্পানির।  lockhart Martin,  Boeing,  Raytheon, Honeywell সহ আরো বেশ কিছু কোম্পানি ভালই লাভ করে বলে জানা যায়

সোভিয়েত -আফগান যুদ্ধ: এ যুদ্ধ (১৯৭৯-১৯৮৯) কে বলা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পিছনে সবচেয়ে বড় কারন৷ এ যুদ্ধে, আফগানিস্তান আর সোভিয়েতের ব্যপক ক্ষতিসাধন হয়।

আফগানিস্তানের অর্থনীতির অবস্থা বেশ টালমাটাল হয়ে যায় সেসময়৷ ৬ মিলিয়ন আফগান শরনার্থী হিসেবে নির্বাসিত হয়, ১.২ মিলিয়ন আফগান সিভিলিয়ান হয় নিহত। এছাড়াও আফগানিস্তানের কৃষি ও শিল্পখাত প্রায় ৪০-৬০% ধ্বংস হয়। ধারনা করা হয়, সব মিলিয়ে মোট ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি তাদের ক্ষতির পরিমান হয়ে দাঁড়ায়। 

এদিকে সোভিয়েতও বেশ ভালই চাপে পড়ে। যুদ্ধকালীন সময়ে ও যুদ্ধের পরে সোভিয়েতের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে। যুদ্ধের সময় তাদের মোট ফেডারেল রিজার্ভের (GDP)  ৪০-৬০% প্রায় মিলিটারিতে খরচ করতো। একই সময়ে এ যুদ্ধে হারার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে। বাড়তে থাকে চাপ, অর্থনৈতিক হতাশা এবং আরো অনেক কিছু। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলেও, আফগানিস্তানের উপর চোখ যায়নি তখনো আমেরিকার।  ফলে ২০০১ সালে আমেরিকা শুরু করে তার আফগান আগ্রাসন। 

আমেরিকা- আফগান যুদ্ধ:  ২০০১ সালের 9/11 attack-এর পর আমেরিকা  আফগানিস্তানে মিলিটারি অপারেশন  শুরু করল। উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ দূর করা। কিন্তু সেখানে আসলে তারা উল্টো কিছু করে এসেছিল। 

গবেষকদের মতে, মোট 9/11 মিলিয়ে, ও পুরো ২০ বছরের যুদ্ধ মিলিয়ে আমেরিকার খরচ হয়েছে $৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ এ টাকা দিয়ে আমেরিকা তার অর্থনীতির অনেক উন্নতি সাধন করতে পারতো। কিন্তু এ যুদ্ধে, আমেরিকার বিশাল বড় একটা সেনাবাহিনী এখনো ডিপ্রেশনে ভুগে। অপরদিকে চলে আসে আফগানিস্তানের কথা, যেখানে এ দীর্ঘ সংঘাতে ৯০০,০০০+ মানুষ সরাসরি নিহত হয়৷ আনুমানিক মৃত্যু ধরা হয় ৩.৬-৩.৮ মিলিয়ন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ।  

war economics and its beneficiaries

কিন্তু একটা সত্য আপনাকে shock করবে: ২০২০-২০২৪ সালে প্রাইভেট ডিফেন্স ফার্মগুলো Pentagon থেকে $2.4 trillion ডলারের চুক্তি পেয়েছিল। এটা Pentagon-এর discretionary spending-এর ৫৪%। এরমধ্যে Lockheed Martinরই চুক্তি ছিল $৭৫ বিলিয়ন ডলার। যা পুরো USAID এবং State Department এর মোট কম্বাইন্ড বাজেটের চেয়েও বেশি৷ এছাড়াও বোয়িং, জেনারেল ডাইনামিকস, রেইথন এবং নর্থরপ গ্রুম্মান বেশ ভালই  ইনকাম করে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় এটা উঠে আসে যে, এ যুদ্ধে প্রধান পাঁচটা চুক্তি থেকল প্রায় $১৬৬ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করে সরকার

ইরাক যুদ্ধ (২০০৩-২০১১):   একটা মিথ্যা দাবির উপর পুরো ৯ বছর চলা যুদ্ধ।  USA থেকে দাবি করা হয় ইরাকের কাছে ধ্বংসাত্বক অস্ত্র আছে। যাকে তারা Weapons of mass destruction নামে বারবার বলে থাকে। অথচ এখনো এটার জন্য ভুগতে হচ্ছে ইরাককে। 

নোবেলজয়ী Joseph Stiglitz এর মতে সামগ্রিক দিক থেকে এ যুদ্ধে আমেরিকার খরচ প্রায় $২-৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। যদিও বিভিন্ন খবর অনুযায়ী তা $১-৩ ট্রিলিয়ন ডলার। 

এযুদ্ধে আমেরিকার তেমন কোন সমস্যা না হলেও ইরাককে ফেস করতে হয়েছে বেশ বড় সড় একটা ধকল। রিপোর্ট অনুযায়ী,  প্রায় ৩,১৫০০০ মানুষ সরাসরি নিহত হয়। এবং ৪ মিলিয়নের বেশি মানুষ শরনার্থী হয়। এছাড়াও বেকারত্ব বেড়ে যায়, তেল উৎপাদন কমে যায়, (২০০৩ সালে ১.৩ মিলিয়ন BPD থেকে ৬,০০,০০০ মিলিয়ন BPD তে নেমে আসে) এছাড়াও এ যুদ্ধে, ISIS এর উথান হয়। 

এ যুদ্ধে সারা দুনিয়ায় তেলের বাজারে বেশ ভালই সমস্যা সৃষ্টি করে। 

কিন্তু এ যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় কিন্তু বেশকিছু কোম্পানির আর কিছু ব্যাক্তির। কিভাবে? 

 Iraq যুদ্ধে প্রাইভেট ডিফেন্স ফার্ম-দের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। শুধুমাত্র এই একটা যুদ্ধে contractors-দের জন্য খরচ হয়েছে কমপক্ষে $138 billion . এবং এর মধ্যে top 10 contractors একাই পেয়েছে ৫২% – অর্থাৎ প্রায় $72 billion। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই বিশাল অঙ্কের মধ্যে প্রায় $31-60 billion হয় নসটো হয়েছে নয়তো fraud-এর মাধ্যমে হারিয়ে গেছে। Commission on Wartime Contracting-এর এই ফান্ডিং  থেকে বোঝা যায় কীভাবে প্রপার ওভারসাইটের অভাবে করদাতার কস্ট উপাজির্ত টাকা লুট হয়ে গেছে।

 Iraq যুদ্ধের সবচেয়ে বড় লাভ করলে অনেকগুলো বিষয় সামনে আসে।

কিন্তু এ যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় একটি কোম্পানির – KBR (Kellogg Brown & Root)। এই company পুরো যুগ ধরে Iraq যুদ্ধে  চুক্তি থেকে করে নিয়েছে বিশাল $39.5 billion ডলার। KBR ছিল Halliburton-এর সাবসিডিয়ারি (২০০৭ সাল পর্যন্ত), এবং Halliburton-এর CEO ছিলেন  Dick Cheney – যিনি পরবর্তীতে Vice President হয়েছিলেন George W. Bush-এর অধীনে কাজ করেছিলেন। Political connection এবং war profiteering-এর এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর হয় না।

KBR-এর major contracts-এর মধ্যে ছিল LOGCAP III, যার মূল্য ছিল $5.6 billion-এর বেশি। এই contract-এ তারা সৈন্যদের জন্য housing, meals, water, bathroom services এবং logistics support provide করত। এছাড়া তাদের ছিল “Restore Iraqi Oil (RIO)” contract, যার ceiling ছিল potentially $7 billion, যদিও বিল করা হয়েছিল $2.5 billion-এর বেশি। কিন্তু সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো – এই contracts-এর বেশিরভাগই ছিল “no-bid”, অর্থাৎ কোনো competitive bidding ছাড়াই সরাসরি দেওয়া হয়েছিল। এবং এতে surprise করার কিছু নেই যে massive fraud এবং overcharging-এর allegations উঠেছে।

Fraud এর মহোৎসব: KBR-এর কেলেঙ্কারি

২০২৩ সালে KBR-কে $109 million settlement দিতে হয় – যা Iraq war-এর largest fraud settlement বলা হয়। এটা ছিল শুধু একটা কেস। একই বছর তাদের আরেকটি kickback settlement-এ দিতে হয় $14 million।  তদন্তে  বেরিয়ে আসে যে তারা ফুয়েল কিনতেই $61 million ডলার  অতিরিক্ত খরচ করেছিল। একজন whistleblower expose করেন কীভাবে একটা $7 billion no-bid contract দেওয়া হয়েছিল কোনো scrutiny ছাড়াই। এই whistleblower, যিনি নিজে KBR-এর employee ছিলেন, তিনি দেখেছেন কীভাবে systematic corruption চলছিল এবং কেউ প্রশ্ন করছিল না কারণ political protection ছিল।

অন্যান্য Major Contractors যারা Billions নিয়ে গেছে

KBR একা নয়, আরও অনেকে এই war economy থেকে profit করেছে। Agility Logistics, একটি Kuwaiti company, contracts পেয়েছে $7.2 billion-এর। Kuwait Petroleum Corporation পেয়েছে $6.3 billion। International Oil Trading Company, যারা Jordan থেকে fuel transport করত, তারা পেয়েছে $2.1 billion। লক্ষ্য করুন, এই সব companies-ই Middle Eastern, এবং তাদের contracts ছিল mainly logistics এবং fuel-related – যেখানে overcharging সবচেয়ে সহজ ছিল detect করা কঠিন।

Reconstruction Firms: যুদ্ধের পরে আরও Profit

যুদ্ধ শেষ হলেও profit-making থামেনি। Iraq reconstruction-এর নামে আরেক দফা looting শুরু হয়। Bechtel, যার board members-এ ছিলেন former Secretary of State George Shultz এবং former State Department official Charles Redman, তারা পেয়েছে major reconstruction contracts।  এই political connections একটা clear pattern দেখায় – যারা government-এ ছিল বা যাদের সাথে close ties আছে, তারাই বড় contracts পায়।

Fluor, Washington Group International, এবং Perini Corporation – এই তিন company মিলে পেয়েছে প্রতিটি up to $500 million Pentagon work। মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯০-২০০২ সালে (অর্থাৎ Iraq war-এর আগে থেকেই) এরা combined $11 billion contracts পেয়েছিল। এটা প্রমাণ করে যে এরা ছিল “insider circle”-এর part, যারা জানত কখন কোথায় war হবে এবং সেখান থেকে কীভাবে profit করতে হবে। এবার আসি সবচেয়ে বিরুক্তিকর খবরে-।International Consortium of Investigative Journalists (ICIJ)-এর investigation থেকে বেরিয়ে এসেছে যে 70+ American companies যারা George W. Bush-এর presidential campaign-এ donate করেছিল, ইরাক যুদ্ধের পর মোট মিলিয়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি পেয়েছে।  এটা কি coincidence? একদম না। এটা হলো quid pro quo – তুমি আমার campaign-এ money দাও, আমি তোমাকে war contracts দেব। এবং সবচেয়ে tragic part হলো – এই পুরো system-টা legal, কারণ campaign finance laws এমনভাবে তৈরি যে এই type-এর corruption-কে legitimize করে।

এটাই ইরাক যুদ্ধের অর্থনীতির আসল চিত্র। এখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোটি কোটি ডলার কামিয়েছে, রাজনৈতিক এলিটরা তাদের দাতা গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রেখেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ—ইরাকি বেসামরিক নাগরিক আর মার্কিন করদাতারা—শুধু ভুগেছে।

আর সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টা কী জানেন? এই একই চিত্র আমরা আফগানিস্তানে দেখছি, সিরিয়ায় দেখছি, এমনকি প্রায় প্রতিটি আধুনিক সংঘাতেই দেখছি। যুদ্ধের এই অর্থনীতি নিজেই নিজেকে টিকিয়ে রাখে। এখানে লাভের হিসাবটাই মুখ্য, আর মানুষের জীবন হয়ে যায় গৌণ।

এগুলো হল War economics এর আসল রুপ। কিন্তু, যুদ্ধ না দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে?

যুদ্ধ কি আসলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উন্নয়ন করে? 

এ কনসেপ্ট টা বুঝতে হলে আপনাকে আগে বুঝতে হবে একটা দেশ ঠিক কি কারনে আরেকটা দেশের উপর যুদ্ধ করে। একটি দেশ সাধারণত তখনই আরেকটি দেশের ওপর আক্রমণ করে, যখন সে মনে করে—এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ না করলে ভবিষ্যতে তার কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রায়ই খনিজ সম্পদ, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্প সক্ষমতা কিংবা ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন জড়িত থাকে।

যুদ্ধ শুরু হলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিতে একটি কৃত্রিম গতি দেখা যায়। বেকারত্ব হঠাৎ কমে আসে, কারণ উৎপাদন ব্যবস্থা সামরিক চাহিদার দিকে মোড় নেয়। অস্ত্র, রেশন, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যাপক সরকারি ব্যয় GDP বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন চাপ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকেও ত্বরান্বিত করে।

তবে এই প্রবৃদ্ধি বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তি নয়, বরং একটি সাময়িক বিভ্রম। যুদ্ধ শেষে সামরিক চাহিদা কমে গেলে এই উৎপাদন কাঠামো অচল হয়ে পড়ে। কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়, ঋণ ও মূল্যস্ফীতি প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হয়। ফলে GDP দ্রুত নিম্নমুখী হয়। একটি দেশ যদি আকারে ও কাঠামোয় অত্যন্ত শক্তিশালী না হয়, তাহলে যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা তার জন্য প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে।

উপসংহার 

আপনাকে যদি এখন বলা হয়, যুদ্ধ আসলে কাজের কিনা, আপনি এটা অবশ্যই বলবেন হ্যা, এটা কিছুটা কাজের। কিন্তু আসল সত্য হলো কোনভাবেই এটা কাজের নয়। আধুনিক war economics মূলত রাষ্ট্র, কর্পোরেট শক্তি এবং বৈশ্বিক রাজনীতির মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। যুদ্ধে অর্থনীতি সবসময় একটা টালমাটাল অবস্থায় থাকে৷ যা থেকে বের হওয়া পসিবল না৷ আজকের রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধও সেম জিনিস আমাদের সামনে এনে দেয়। ইউক্রেনের শরনার্থী,  GDP নিচে নেমে যাওয়া,  রাশিয়ারও অর্থনৈতিক চাপ এসবই আপনাকে একটা কথা মনে করাবে, War is not Bad. It’s Worst then you think. সব মিলিয়ে বলা যায়, war economics শুধু যুদ্ধকালীন নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনীতিতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

Previous Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *