9:52:49 PMBST

think, observe, reflect

Research & Analysis

যা-ই ঘটুক, দায় মুসলমানের? ইসলামোফোবিয়ার বিপদ ও বাস্তবতা। How dangerous is Islamophobia?

প্যারিসের রাস্তায় হিজাব পরা এক নারী, চারপাশে সন্দেহের দৃষ্টি – ইসলামোফোবিয়ার প্রতীকী ছবি
প্যারিসের রাস্তায় হিজাব পরা এক নারী, চারপাশে সন্দেহের দৃষ্টি – ইসলামোফোবিয়ার প্রতীকী ছবি
Share
Share

ইসলামোফোবিয়া কেন একটি বিপজ্জনক প্রবণতা

২০২৬ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের রাস্তায় যারা নেমেছিল, তাদের দাবিগুলো খুব নাটকীয় কিছু ছিল না। স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি, অবহেলিত শ্রেণিকক্ষ, বাজারে জিনিসপত্রের দাম। শুরুটা করেছিল শিক্ষার্থীরা। পরে আরো নানা গোষ্ঠী যোগ দেয়, আর কয়েক দিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ মিছিলের একটা অংশ গড়িয়ে যায় ভাংচুর আর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে।

তারপর যা হলো, সেটা আন্দোলনের চেয়েও শিক্ষণীয়।

আটলান্টিকের ওপার থেকে আঙুল উঠল অভিবাসী আর মুসলমানদের দিকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, এই অস্থিরতার আসল কারণ “দেশকে ঘৃণা করে এমন মানুষদের” ঢুকতে দেওয়া; তাঁর ভাষায়, প্যারিস শিগগিরই “মুসলিম শহর” হয়ে যাবে। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শাল দায় চাপালেন সরাসরি “র‍্যাডিকাল ইসলাম”-এর ঘাড়ে। অথচ বার্তা সংস্থা AP-র একটি ফ্যাক্ট-চেক জানাচ্ছে, ফরাসি কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ দাঙ্গার সঙ্গে অভিবাসীদের কোনো যোগসূত্র পায়নি। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়নি, ধর্মের সঙ্গে সহিংসতার সরাসরি সম্পর্কও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রমাণ আসার আগেই রায় চলে এসেছিল।

ইসলামোফোবিয়া বুঝতে হলে একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, এটা তথ্য আর প্রমানের জন্য অপেক্ষা করে না। ধরা যাক, তর্কের খাতিরে, দাঙ্গাকারীদের কেউ কেউ মুসলমান ছিল। তাতেই কি ফ্রান্সের লাখ লাখ মুসলমানকে একসঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা যায়? কোনো খ্রিষ্টান দাঙ্গাকারীর জন্য তো কেউ গির্জাকে জবাবদিহি করতে বলে না। এই লেখায় আমি বোঝার চেষ্টা করব অভ্যাসটা কোথা থেকে এলো, এর পক্ষে কী যুক্তি দেওয়া হয়, আর কেন একে নিছক “ভিন্নমত” বলে পাশ কাটানো যায় না।

শব্দটা পুরোনো, তীব্রতাটা নতুন

“ইসলামোফোবিয়া” শব্দটা জনপরিসরে পরিচিতি পায় ১৯৯৭ সালে, ব্রিটেনের রানিমিড ট্রাস্টের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে। অর্থাৎ ৯/১১-এর আগেও সমস্যাটা ছিল, আলাদা নাম দেওয়ার মতো যথেষ্ট পরিমাণেই ছিল। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যা ঘটল, তাকে শুধু “বৃদ্ধি” বললে কম বলা হয়।

একটা সংখ্যা দেখা যাক। FBI-এর হেট ক্রাইম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালে আমেরিকায় মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ নথিভুক্ত হয়েছিল ২৮টি। পরের বছর সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৪৮১-তে। প্রায় সতেরো গুণ।

লক্ষ করার মতো ব্যাপার হলো, হামলার মাত্র ছয় দিন পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওয়াশিংটনের ইসলামিক সেন্টারে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “Islam is peace”। তবুও ঘৃণা থামেনি। হয়তো এ থেকে বোঝা যায়, ভয় একবার সমাজে ঢুকে পড়লে সে আর ওপরের নির্দেশের অপেক্ষা করে না। আর একটা কথা প্রায়ই চাপা পড়ে যায়: সেদিন টুইন টাওয়ারে যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে মুসলমানও ছিলেন।

ওয়ার অন টেরর এবং আমেরিকা

৯/১১-এর পর শুরু হলো “ওয়ার অন টেরর”। আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে প্রায় বিশ বছরের যুদ্ধ, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ ও সাদ্দাম হোসেনের পতন, পরে পাকিস্তান, ইয়েমেন, সিরিয়ায় বিস্তৃত সামরিক অভিযান। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের Costs of War প্রকল্পের হিসাবে, ২০০১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই পাঁচ দেশে সরাসরি যুদ্ধ-সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে বেসামরিক ৪ লাখ ৩২ হাজারের বেশি। শুধু আফগানিস্তানেই বেসামরিক মৃত্যু প্রায় ৪৬ হাজার।

এটা কেবল সরাসরি মৃত্যুর হিসাব। ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অনাহার আর রোগের মতো পরোক্ষ কারণ যোগ করলে প্রকল্পটির অনুমান দাঁড়ায় ৪৫ থেকে ৪৭ লাখে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। আর এর পেছনে মার্কিন করদাতাদের খরচ প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

এত বড় সংখ্যা মাথায় ধরে না। হয়তো সমস্যার একটা অংশ সেখানেই। একটা জনগোষ্ঠীকে যখন বছরের পর বছর “সম্ভাব্য সন্ত্রাসী” হিসেবে দেখানো হয়, তখন তাদের মৃত্যু খবরের পাতায় “কোল্যাটারাল ড্যামেজ” নামে জায়গা পায়, শোকের তালিকায় নয়। ইসলামোফোবিয়ার দ্বিতীয় বিপদটা এই জায়গায়। ঘৃণা কেবল মানুষকে আঘাত করে না, তাদের মৃত্যুকেও অন্যদের কাছে সহনীয় করে তোলে।

একটু পেছনে যাই। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় বসনীয় সার্ব বাহিনী আট হাজারেরও বেশি মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা করে। জায়গাটা তখন জাতিসংঘ ঘোষিত “নিরাপদ অঞ্চল”, সেখানে শান্তিরক্ষীরাও মোতায়েন ছিল। তারা কিছুই ঠেকাতে পারেনি। পরে আন্তর্জাতিক আদালত একে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। “মুসলমান” পরিচয়কে হুমকি হিসেবে দাঁড় করানোর শেষ পরিণতি কোথায় ঠেকতে পারে, স্রেব্রেনিৎসা তার একটা উত্তর।

অভিযোগগুলো আসে কোথা থেকে

ইসলামোফোবিয়ার পক্ষের লোকেরা শুধু আবেগ দিয়ে কথা বলেন না, কুরআনের কিছু আয়াতও দেখান। আয়াতগুলো বানানো নয়, সত্যিই আছে। আসল প্রশ্ন হলো, সেগুলো কোন প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল, আর পুরো কুরআন পাশাপাশি রেখে পড়লে কী দাঁড়ায়।

কুরআন নাজিল হয়েছে প্রায় তেইশ বছর ধরে, একবারে নয়। এর বেশিরভাগ আয়াত ইবাদত, নৈতিকতা আর পারিবারিক জীবন নিয়ে; যুদ্ধসংক্রান্ত আয়াতগুলোর প্রায় প্রতিটির সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো সংঘাত বা চুক্তির ইতিহাস জড়িয়ে আছে। একটা সতর্কতাও দরকার: এই লেখা কোনো ফতোয়া নয়, আর এসব আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যেও মতভেদ আছে। সেই মতভেদ আমি লুকাতে চাই না।

অভিযোগ ১: “ইসলাম সন্ত্রাসের ধর্ম”

এই অভিযোগের জ্বালানি আল-কায়েদা, তালেবান, ISIS-এর মতো সংগঠন। জবাবে সাধারণত সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করা হয়:

“যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল, অন্য কাউকে হত্যার বদলা বা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির কারণ ছাড়া, সে যেন পুরো মানবজাতিকে হত্যা করল।”

এখানে সৎভাবে একটা কথা স্বীকার করা দরকার। আয়াতটি এসেছে বনী ইসরাইলের প্রতি দেওয়া বিধান হিসেবে, এবং ঠিক পরের আয়াতে (৫:৩৩) “বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের” কঠোর শাস্তির কথা আছে। সমালোচকেরা এটা ধরিয়ে দেন, আর তাঁদের আপত্তি পুরোপুরি ভিত্তিহীন নয়। তবে কুরআন বিধানটি উল্লেখ করেছে সমর্থনের সুরেই, আর অন্যায় হত্যার নিষেধ অন্যত্রও স্পষ্ট, যেমন ৬:১৫১ ও ১৭:৩৩। পাশাপাশি আছে সেই ছোট্ট বাক্যটি, যা নিয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে: “দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই” (২:২৫৬)।

তাহলে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এলো কোথা থেকে? অনেক গবেষকের মতে, ধর্মগ্রন্থের চেয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতাই এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। ISIS-এর জন্ম হয়েছিল ২০০৩-পরবর্তী ইরাকের বিশৃঙ্খলা আর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ফাঁকে। সেখানে ধর্ম ব্যবহৃত হয়েছে পতাকা হিসেবে, আর পতাকা দেখে পুরো জাতিকে বিচার করলে ভুলটা আমাদেরই।

অভিযোগ ২: “কুরআন অমুসলিমদের হত্যা করতে বলে”

এই অভিযোগের কেন্দ্রে থাকে সূরা তাওবার ৫ নম্বর আয়াত:

“অতঃপর নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হলে মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো, তাদের বন্দী করো, অবরোধ করো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে থাকো। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও।”

বিচ্ছিন্নভাবে পড়লে আয়াতটা ভয়ংকর শোনায়। কিন্তু সূরাটা পড়তে হবে শুরু থেকে। এটি নাজিল হয় নবম হিজরির শেষ দিকে, মক্কা বিজয়ের পরে। সেই বিজয়ের পটভূমি ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধিভঙ্গ: কুরাইশদের মিত্র বনু বকর মুসলমানদের মিত্র বনু খুজাআর ওপর রাতের আঁধারে হামলা চালায়, কুরাইশরা দেয় অস্ত্র। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পরও আরবের নানা গোত্রের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ আর শত্রুতার ইতিহাস শেষ হয়নি।

সূরা তাওবার প্রথম আয়াতগুলো তাই চুক্তিভঙ্গকারীদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা, চার মাসের সময় দিয়ে। আর পঞ্চম আয়াতের ঠিক আগের আয়াতটি, যেটা খুব কমই উদ্ধৃত হয়, পুরো ছবিটা বদলে দেয়। ৯:৪ বলছে:

“তবে মুশরিকদের মধ্যে যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছ, তারপর তারা তোমাদের প্রতি কোনো ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সঙ্গে চুক্তি তার মেয়াদ পর্যন্ত পূর্ণ করো।”

অর্থাৎ নির্দেশটা সব অমুসলিমের বিরুদ্ধে নয়, যারা চুক্তি ভেঙেছে তাদের বিরুদ্ধে। ৯:৬ আরো এক ধাপ এগোয়: কোনো মুশরিক আশ্রয় চাইলে তাকে আশ্রয় দিতে হবে, এবং তারপর “নিরাপদ স্থানে পৌঁছে” দিতে হবে। ৯:১৩-এ প্রশ্ন করা হয়েছে, তোমরা কি এমন লোকদের সঙ্গে লড়বে না, যারা প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে এবং “তারাই প্রথম শুরু করেছিল”?

এখানে একটা অস্বস্তিকর সত্যও আছে, যা এড়িয়ে গেলে লেখাটা অসৎ হবে। ধ্রুপদি তাফসিরকারকদের অনেকে “তওবা, সালাত, যাকাত” শর্তটিকে ইসলাম গ্রহণ হিসেবেই বুঝেছেন, এবং কেউ কেউ এই আয়াতকে “আয়াতুস সাইফ” (তরবারির আয়াত) বলে দাবি করেছেন যে এটি আগের শান্তির আয়াতগুলোকে রহিত করেছে। এই মত ইতিহাসে ছিল। তবে আরেক দল পণ্ডিত, তখনও এবং এখনও, আয়াতটিকে সেই সময়ের আরব উপদ্বীপের চুক্তিভঙ্গকারী গোত্রগুলোর মধ্যে সীমিত হিসেবে পড়েন। আমার কাছে দ্বিতীয় পাঠটাই বেশি সুসংগত মনে হয়, কারণ ৯:৪, ৯:৬ আর ২:২৫৬ একসঙ্গে না মানলে কুরআনের ভেতরে একটা বিরোধ তৈরি হয়, যা প্রথম পাঠ ব্যাখ্যা করতে পারে না।

এখানে একটা অদ্ভুত মিল চোখে পড়ে। ISIS আর ইসলামবিদ্বেষী প্রচারক, দুই পক্ষই ৯:৫ পড়ে ৯:৪ বাদ দিয়ে। পদ্ধতিটা হুবহু এক। পার্থক্য শুধু উদ্দেশ্যে।

সূরা তাওবার ২৯ নম্বর আয়াত নিয়েও একই প্রশ্ন ওঠে। এতে আহলে কিতাবের একটি অংশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বলা হয়েছে “যতক্ষণ না তারা জিযিয়া দেয়”। সময়টা নবম হিজরি, তাবুক অভিযানের কাছাকাছি, যখন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে। জিযিয়া ছিল অমুসলিম নাগরিকদের কর, যার বিনিময়ে তারা সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি আর সুরক্ষা পেত; অধিকাংশ ফকিহের মতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্ররা এর বাইরে ছিলেন। তবে “সাগিরুন” (অবনত অবস্থায়) শব্দের ব্যাখ্যায় মতভেদ ছিল: কিছু ধ্রুপদি আলেম অপমানজনক ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ইমাম শাফেয়ির মতো অন্যরা একে রাষ্ট্রের আইন মেনে নেওয়া হিসেবে পড়েছেন। “জিযিয়া কখনোই অপমানজনক ছিল না” বলাটা তাই ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হবে না।

এরপর সূরা আনফালের ৩৯ নম্বর আয়াত: “তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকো যে পর্যন্ত না ফিতনা নিঃশেষ হয়।” প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় হিজরির বদর যুদ্ধ। মক্কার তেরো বছরে মুসলমানরা নির্যাতন, বয়কট আর জোর করে ধর্মত্যাগ করানোর চেষ্টার শিকার হয়েছিল; ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যায় এই কুফরি ও নির্যাতনই “ফিতনা”। আর কয়েক আয়াত পরেই ৮:৬১: “যদি তারা সন্ধির দিকে ঝোঁকে, তবে তুমিও সেদিকে ঝোঁকো।” যুদ্ধ আর সন্ধির নির্দেশ একই সূরায়, পাশাপাশি।

সবশেষে সূরা বাকারার ১৯১ নম্বর আয়াত, “তাদের হত্যা করো যেখানেই তাদের পাও”। এই অংশটা প্রায়ই উদ্ধৃত হয়, অথচ ঠিক আগের আয়াত ২:১৯০ প্রায় কেউ উদ্ধৃত করেন না:

“আর আল্লাহর পথে তাদের সঙ্গে লড়াই করো, যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করে, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।”

অনেক মুফাসসিরের মতে প্রেক্ষাপট হুদায়বিয়ার সময়কাল, যখন মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদের উমরাহ পালনে বাধা দিচ্ছিল। পরের দুই আয়াতে (২:১৯২-১৯৩) বলা হয়েছে, তারা বিরত হলে আল্লাহ ক্ষমাশীল, এবং জালিম ছাড়া কারো বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি নেই। “ফিতনা হত্যার চেয়েও মারাত্মক” বাক্যটির অর্থও এখানে স্পষ্ট হয়: মানুষের বিশ্বাসের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যুদ্ধের প্রাণহানির চেয়েও বড় অপরাধ।

আর যদি জানতে চান কুরআন সাধারণ অমুসলিমদের সঙ্গে কেমন আচরণ চায়, তাহলে ৬০:৮ পড়ে দেখুন: “দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘর থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।” সম্ভবত “অমুসলিমদের হত্যা করো” অভিযোগের সবচেয়ে সরল জবাব এটাই।

নারী প্রশ্ন: ইসলাম যা বলে

ইসলামোফোবিয়ার আলোচনায় নারীর প্রসঙ্গ আসে একটা নির্দিষ্ট ছবি নিয়ে: বন্দি, নির্বাক, পোশাকে ঢাকা মুসলিম নারী। এই ছবি শুধু সমালোচনার হাতিয়ার নয়, নীতিরও ভিত্তি হয়েছে। ফ্রান্স ২০০৪ সালে সরকারি স্কুলে হিজাবসহ দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক নিষিদ্ধ করে, আর ২০১০ সালে জনসমক্ষে মুখ ঢাকা নিকাব। নারীকে “মুক্ত” করার নামে নারীরই পোশাক নিয়ন্ত্রণ, প্যারাডক্সটা খেয়াল করার মতো।

সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখতে, সৌন্দর্য প্রকাশে সংযমী হতে আর ওড়না বুকের ওপর টেনে দিতে বলা হয়েছে। প্রচলিত ব্যাখ্যায় এটি হিজাবের প্রধান ভিত্তি। সমালোচকের প্রশ্ন সরল: একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের পোশাক নিজে ঠিক করবেন না কেন? ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি মনে করিয়ে দেয়, ঠিক আগের আয়াতেই (২৪:৩০) পুরুষদের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ এসেছে। মুখ ও হাত ঢাকা বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে ফকিহদের মতভেদও পুরোনো। তবু দুটো জিনিস আলাদা রাখতে হবে: স্বেচ্ছায় হিজাব পরা, আর কারো ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া। একইভাবে, কারো মাথা থেকে জোর করে তা খুলে নেওয়াও এক ধরনের জবরদস্তি।

সূরা আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে নারীদের বাইরের চাদর টেনে নিতে বলা হয়েছে, “যাতে তাদের চেনা যায় এবং উত্যক্ত করা না হয়”। প্রশ্ন ওঠে, নারীর নিরাপত্তা কি তাঁর পোশাকের ওপর নির্ভর করবে? আধুনিক মানবাধিকারের দৃষ্টিতে হয়রানির দায় হয়রানিকারীর। ইসলামী নৈতিকতাতেও কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষিদ্ধ, কাজেই এই আয়াত দিয়ে কোনো নারীর ওপর হামলার দায় তাঁর পোশাকে চাপানো যায় না। ধর্মীয় দায়িত্ব আর ব্যক্তির নির্বাচনের অধিকার, এই দুই অবস্থান পুরোপুরি মেলে না, এবং সেটা মেনে নেওয়াই সৎ আলোচনা।

সবচেয়ে কঠিন আয়াতটি সম্ভবত সূরা নিসার ৩৪। এখানে পুরুষদের “কাওয়ামুন” বা দায়িত্বশীল বলা হয়েছে, এবং দাম্পত্য বিরোধে প্রথমে উপদেশ, তারপর শয্যা আলাদা করা, তারপর “ওয়াদরিবুহুন্না” শব্দটি এসেছে, যার প্রচলিত অনুবাদ “প্রহার করো”। সমালোচনাটা স্পষ্ট: বিয়ে কি কাউকে অন্যজনের শরীরের ওপর শাস্তির অধিকার দেয়?

ধ্রুপদি তাফসির ও ফিকহ শব্দটিকে অনুমতি হিসেবেই দেখেছে, তবে কঠোর শর্তে: আঘাতহীন, দাগ না ফেলা, প্রায় প্রতীকী। ইমাম তাবারি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর যে ব্যাখ্যা এনেছেন, তাতে মিসওয়াক বা এমন কিছুর কথা আছে যা শরীরের ক্ষতি করে না। আধুনিক কিছু চিন্তাবিদ শব্দটির অর্থ “আলাদা হয়ে যাওয়া” করেন, যদিও সব আলেম তা মানেন না। এখানে সবচেয়ে বড় প্রমাণ সম্ভবত নবীর নিজের আচরণ। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী কখনো কোনো নারী বা খাদেমকে নিজের হাতে আঘাত করেননি (সহিহ মুসলিম, ২৩২৮)। আবু দাউদে (২১৪২) স্ত্রীর মুখে আঘাত না করা ও অপমান না করার নির্দেশ এসেছে।

উত্তরাধিকারের প্রশ্নে ৪:১১ বলছে, সন্তানদের মধ্যে ছেলের অংশ দুই মেয়ের সমান। ইসলামী আইনের ভেতরের যুক্তি হলো দায়িত্ববণ্টন: স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ আর মোহরের দায় পুরুষের, আর নারীর পাওয়া সম্পদ সম্পূর্ণ তাঁর নিজের, সংসারে ব্যয় করতে তিনি বাধ্য নন। একই আয়াতে সন্তান থাকলে মা-বাবা দুজনই পান সমান এক-ষষ্ঠাংশ, আর ৪:৭ নারী-পুরুষ উভয়ের উত্তরাধিকারের অধিকার স্বীকার করেছে। কিন্তু আজ যখন নারীরাও সংসার চালান, মা-বাবার চিকিৎসার খরচ দেন, তখন এই কাঠামো আধুনিক সমতার মানদণ্ডে সবাইকে সন্তুষ্ট করবে, এমন দাবি করা কঠিন। বহুবিবাহ আর সাক্ষ্যের বিধান নিয়েও বিতর্ক আছে, যা এই লেখার পরিসরের বাইরে।

আমার নিজের অবস্থান এটুকু: এসব প্রশ্নে প্রকৃত মতপার্থক্য আছে, এবং তা স্বীকার করলে ইসলাম দুর্বল হয় না। দুর্বল হয় তখন, যখন আমরা প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইতিহাস বাঁকিয়ে ফেলি। আর এই মতপার্থক্যের কোনোটিই দেড়শো কোটির বেশি মানুষকে “বিপজ্জনক” বলার যুক্তি হতে পারে না।

মিডিয়া: কার হামলা কতটা খবর

ইসলামোফোবিয়া ছড়ানোয় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে অনেক কথা হয়, তবে অনুভূতির চেয়ে তথ্য এখানে বেশি কাজের। ২০১৯ সালে Justice Quarterly জার্নালে প্রকাশিত এরিন কার্নস ও তাঁর সহকর্মীদের একটি গবেষণায় ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আমেরিকায় ঘটা সন্ত্রাসী হামলার সংবাদ কভারেজ বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা দেখেছেন, হামলাকারী মুসলমান হলে ঘটনাটি অন্যদের তুলনায় গড়ে প্রায় ৩৫৭ শতাংশ বেশি কভারেজ পেয়েছে। একই অপরাধ, ভিন্ন মাত্রার আলো। বছরের পর বছর এই ছবি দেখলে “সন্ত্রাসী” শব্দের সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট চেহারা জুড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

এখানে একটা সংশোধনও দরকার, কারণ আমাদের নিজেদের প্রচারেও ভুল ঢুকে পড়ে। প্রায়ই বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারীকে মিডিয়া কেবল “মানসিক রোগী” বলেছিল। বাস্তবতা ভিন্ন। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চের ওই হামলায় ৫১ জন নিহত হন, প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন প্রকাশ্যে একে সন্ত্রাসী হামলা বলেন, এবং হামলাকারী নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দণ্ডিত হয়, পায় প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন। সমস্যাটা তাই একক ঘটনায় নয়, সামগ্রিক প্রবণতায়, আর সেটা প্রমাণ করতে দুর্বল উদাহরণের চেয়ে শক্ত তথ্যই বেশি কাজের।

ক্রাইস্টচার্চ আরেকটা জিনিসও মনে করিয়ে দেয়। হামলাকারী তার ইশতেহারে ইউরোপে মুসলমানদের “আগ্রাসন” নিয়ে যে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব লিখেছিল, সেটা অনলাইনের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারেরই ভাষা। “প্যারিস মুসলিম শহর হয়ে যাবে” ধরনের মন্তব্য যখন মূলধারার রাজনীতিকের মুখে শোনা যায়, তখন সেই ভাষা আর প্রান্তে থাকে না। ইসলামোফোবিয়ার সবচেয়ে বড় বিপদ সম্ভবত এটাই: কথা থেকে কাজে যেতে তার খুব বেশি সময় লাগে না।

রাজনীতি: ভয়ের ভোটব্যাংক

ভয় ভোট টানে, আর পরিচয়ের রাজনীতিতে “অন্য” একজনকে দাঁড় করানো সবচেয়ে পুরোনো কৌশলগুলোর একটা।

ভারতের উদাহরণটা জটিল। হিন্দু-মুসলিম বিভাজন নতুন নয়; ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৯২-এর বাবরি মসজিদ ভাঙা, ২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গা সবই বিজেপির কেন্দ্রে আসার আগের ঘটনা। তবে সমালোচকদের মতে ২০১৪ সালের পর বিভাজন আরো তীক্ষ্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), প্রস্তাবিত NRC-র সঙ্গে মিলে অনেক মুসলমানের মনে নাগরিকত্ব প্রমাণের আশঙ্কা তৈরি করেছে। মুসলমানদের বাড়িঘর বুলডোজারে ভাঙার অভিযোগও তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো; সরকারের দাবি, এগুলো অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। কোন ব্যাখ্যা সঠিক, সে বিচার পাঠকের।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে সতর্ক থাকা দরকার। সংঘাতটা মূলত ভূমি, দখল আর জাতীয় অধিকারের, এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে খ্রিষ্টানও আছেন। একে সরলভাবে “মুসলিমবিরোধী যুদ্ধ” বলাটা ঠিক হবে না। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর গাজায় যে যুদ্ধ শুরু হয়, তাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি নাগাদই নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছিল। সেই মৃত্যুগুলোকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে “অনিবার্য” হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটা ইসলামোফোবিয়ারই আরেক রূপ: মৃত্যুকে সহনীয় করে তোলা।

ইউরোপে অভিবাসন আর ইসলামকে এক বাক্যে জুড়ে দেওয়া এখন ডানপন্থী রাজনীতির পরিচিত ভাষা, আর সেই ভাষা আটলান্টিকের ওপারেও প্রতিধ্বনি পায়। শিক্ষকের ঘাটতি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন কয়েক দিনে “মুসলিম সমস্যা” হয়ে গেল, এটাই দেখায় ভাষাটা কত সহজে কাজ করে।

তরুণ প্রজন্ম কিভাবে ইসলামকে দেখছে?

তবে ছবিটা পুরো অন্ধকার নয়।

কোনো কিছুকে যত বেশি নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়, কৌতূহল তত বাড়ে, এমন একটা কথা প্রচলিত আছে। তরুণদের অনেকে এখন মুসলমানদের চেনে টেলিভিশনের পর্দা থেকে নয়, সহপাঠী বা সহকর্মী হিসেবে। সামনাসামনি পরিচয় ভয় কমায়।

রাজনীতিতে এর কিছু প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। আর এক বছর পর, ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানে আব্দুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারিয়ে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলমান হয়েছেন (CBS News, NPR)। অবশ্য এই জয়টাও ইসলামোফোবিয়া থেকে মুক্ত ছিল না। প্রাইমারিতে তাঁর জয়ের পরপরই মুসলিমবিরোধী বক্তব্য বেড়ে গিয়েছিল, ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল আল-আহরাম। আশা আর প্রতিরোধ, দুটোই একসঙ্গে চলছে।

ধর্মান্তর নিয়ে একটু সাবধানে কথা বলা ভালো। “দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে” কথাটা আবেগে ভালো শোনায়, কিন্তু পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ বলছে, আমেরিকায় যত মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন, প্রায় তত মানুষই ইসলাম ছেড়েও যান। কাজেই আশার আসল সূচক ধর্মান্তরের সংখ্যা নয়, গ্রহণযোগ্যতা: একটা ছোট সন্ত্রাসী দলের জন্য পুরো জাতিকে দোষ দেওয়া যায় না, এই সাধারণ কথাটা কত মানুষ মেনে নিচ্ছে।

শেষ কথা: বিপদটা আসলে কার

ফ্রান্সের সেই আন্দোলনে ফিরে যাই। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছিল স্কুলের জন্য, শিক্ষকের জন্য। কয়েক দিনের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে গেল ইসলাম আর অভিবাসন। লাভ হলো কার? মুসলমানদের নয়, আর যে শিক্ষার্থী শুধু একজন শিক্ষক চেয়েছিল, তারও নয়।

এখানেই ইসলামোফোবিয়ার সবচেয়ে কম আলোচিত বিপদ। এটা কেবল মুসলমানদের ক্ষতি করে না, যে সমাজ একে লালন করে, সেই সমাজের আসল সমস্যাগুলোকেও আড়াল করে দেয়। ঘৃণা প্রমাণের জায়গা দখল করে, মৃত্যুকে সংখ্যায় পরিণত করে, আইনের ভাষায় ঢুকে পড়ে, আর কখনো কখনো ক্রাইস্টচার্চের মতো কোনো মসজিদে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে যায়।

মুসলমানদের দিক থেকে করণীয়ও আছে। ইসলামের পক্ষে সবচেয়ে শক্ত যুক্তি সেটাই, যা সত্য আর সৎ: কঠিন আয়াত এড়িয়ে না গিয়ে তার পুরো প্রেক্ষাপট দেখানো, মতভেদ স্বীকার করা, আর নিজেদের প্রচারেও ভুল তথ্য না ছড়ানো। ইসলামোফোবিয়া সমষ্টিগত দোষারোপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তার জবাবও তাই একই ফাঁদে পা দিয়ে হয় না। পুরো পশ্চিমকে, বা পুরো একটা প্রজন্মকে দোষ দিলে আমরা ঠিক সেই কাজটাই করি, যার বিরুদ্ধে এই লেখা।

হয়তো একদিন এমন দিন আসবে, যখন কোনো শহরে দাঙ্গা হলে প্রথম প্রশ্ন হবে “কী ঘটেছে”, “কে মুসলমান” নয়। সেদিন পর্যন্ত প্রশ্নটা বারবার করে যেতে হবে।

যদি আমরা এবার কিছু প্রশ্ন তুলি, তাহলে, পুরো ছবিটি ধরা পড়বে

প্রশ্ন: ইসলামোফোবিয়া কী?
উত্তর: মুসলমান ও ইসলামের প্রতি অযৌক্তিক ভয়, বিদ্বেষ বা বৈষম্য। শব্দটি ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের রানিমিড ট্রাস্টের প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিচিতি পায়।

প্রশ্ন: ৯/১১-এর পর ইসলামোফোবিয়া কতটা বেড়েছিল?
উত্তর: FBI-এর হিসাবে আমেরিকায় মুসলিমবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ ২০০০ সালে ছিল ২৮টি, ২০০১ সালে হয় ৪৮১টি, প্রায় সতেরো গুণ।

প্রশ্ন: কুরআন কি অমুসলিমদের হত্যা করতে বলে?
উত্তর: সূরা তাওবার ৯:৫ আয়াত চুক্তিভঙ্গকারী নির্দিষ্ট গোত্রদের প্রসঙ্গে। ঠিক আগের আয়াত ৯:৪ চুক্তি রক্ষাকারীদের সঙ্গে চুক্তি পূর্ণ করতে বলে, আর ৬০:৮ যুদ্ধ না করা অমুসলিমদের প্রতি সদাচরণের অনুমতি দেয়। তবে ব্যাখ্যা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে।

প্রশ্ন: মিডিয়া কি মুসলিম হামলাকারীদের বেশি কভারেজ দেয়?
উত্তর: ২০১৯ সালে Justice Quarterly-তে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, আমেরিকায় মুসলিম হামলাকারীর ঘটনা গড়ে প্রায় ৩৫৭% বেশি কভারেজ পেয়েছে।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুনঃ ভারত কি মুসলিম বিরোধী? হিন্দুত্ববাদ ও RSS-BJPর আসল ইতিহাস। Is India Anti- Muslim?

Share
Written by

The Insight Mirror

think, observe, reflect

Join the discussion

Your email address will not be published. Required fields are marked *