The Identity Crisis of Young Men: তরুণ পুরুষের পরিচয় সংকট — এটা কি সত্যিই বাস্তব?
শুরুতেই একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। “তরুণ পুরুষের পরিচয় সংকট” (The Identity Crisis of Young Men) — এই বাক্যটা উচ্চারণ করলেই দুটো দল সক্রিয় হয়ে যায়। একদল বলে, এটা অতিরঞ্জিত, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার নতুন মোড়ক। আরেকদল বলে, এটা মোটেও কোন অতিরঞ্জিত বিষয় নয়। বরং আসল। দুটো অবস্থানই, সৎভাবে বলতে গেলে, তথ্য থেকে অনেক দূরে।
তো সত্যিটা কোথায়? এই লেখাটা সেই প্রশ্নটাকেই সামনে রাখতে চায় — কোনো রায় দেওয়ার জন্য নয়, বরং বিতর্কটাকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসার জন্য।
The Identity Crisis of Young Men; সংকটটা আদৌ বাস্তব কি না, সেটা জিজ্ঞেস করাটাই দরকার
Erik Erikson ১৯৬৮ সালে identity crisis ধারণাটা দিয়েছিলেন — কৈশোরে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সংগ্রাম হিসেবে। এখন শব্দটা অনেক বড় হয়ে গেছে। তরুণ পুরুষরা কি করবে, কী হবে, কোথায় দাঁড়াবে — এই প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর না পাওয়ার যে অবস্থা, সেটাকেই এখন “পরিচয় সংকট” বলা হচ্ছে।
কিন্তু এখানে প্রথম সমস্যাটা হলো — কোন তরুণ পুরুষের কথা বলা হচ্ছে? আমেরিকার শিল্পশূন্য শহরের কৃষ্ণাঙ্গ যুবক? নাকি ইউরোপের উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে? নাকি দূরবর্তী বাংলাদেশের বেকার স্নাতক? সত্যি বলতে এই তিনজনের অভিজ্ঞতা মোটেই এক নয়। শ্রেণি, বর্ণ, ভূগোল সবকিছু মিলিয়ে একটা যুগপৎ চিত্র আঁকার চেষ্টা তাই অনেকটাই বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে।
তবু কিছু তথ্য আছে যেগুলো উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শিক্ষার ফাঁক: যেটুকু পরিষ্কারভাবে পরিমাপযোগ্য
১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি বছর মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। এটা কোনো এক বছরের ব্যতিক্রম নয়। ২০২৪ সালে পুরুষ শিক্ষার্থী মাত্র ৪২ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ পুরুষদের মধ্যে মাত্র ৫৭ শতাংশ কলেজে ভর্তি হয়, নারীদের ক্ষেত্রে সেটা ৬৫ শতাংশ। কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের ক্ষেত্রে অবস্থাটা আরও তীব্র — মহামারি-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার কম পুরুষ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কেন এমন হচ্ছে, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে। একটা ব্যাখ্যা দেয় American Institute for Boys and Men-এর Richard Reeves — ছেলেরা মেয়েদের তুলনায় স্নায়বিকভাবে ধীরে পরিপক্ব হয়, কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা উভয়কে একই গতিতে বিকশিত ধরে নেয়। আরেকটা ব্যাখ্যা আসে সাংস্কৃতিক জায়গা থেকে — PMC-তে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, কৈশোরের পুরুষ পরিচয় গঠনের একটা পর্যায়ে “স্কুলে পরিশ্রম করা মেয়েলি” — এই ধারণাটা ছেলেদের শিক্ষাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
[গবেষণা নোট] OECD-র তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, প্রায় সব উচ্চআয়ের দেশেই পাঠ দক্ষতায় (reading literacy) মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে — এবং এই ফাঁক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়। পাঠ দক্ষতা পরবর্তী শিক্ষার গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় একক চলক হিসেবে চিহ্নিত।
মানসিক স্বাস্থ্য: যে প্যারাডক্সটা কেউ সহজে স্বীকার করতে চায় না
এটা সম্ভবত সবচেয়ে অস্বস্তিকর তথ্যগুচ্ছ।
নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুরুষরা আত্মহত্যায় মারা যান প্রায় চার গুণ বেশি। আমেরিকায় ২০২৪ সালে মোট আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু ছিল ৪৮,৮২৪ জন — এর মধ্যে পুরুষ ৩৮,৯৭৭ জন, নারী ৯,৮৪৭ জন (AFSP, 2025)। জার্মানিতে ২০২৩ সালে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী যারা আত্মহত্যায় মারা গেছেন, তাঁদের ৭১.১ শতাংশ ছেলে।

এই তথ্যটা কীভাবে ব্যাখ্যা করব? দুটো কারণ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, পদ্ধতিগত মারাত্মকতা — পুরুষরা সাধারণত আরও বেশি প্রাণঘাতী পদ্ধতি ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়ত, সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা। Frontiers in Digital Health (2025)-এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, ছেলে ও তরুণ পুরুষরা মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নারীদের তুলনায় “উল্লেখযোগ্যভাবে কম” অংশগ্রহণ করেন — যদিও মানসিক ব্যাধির হার প্রায় সমান।
“ছেলেরা কাঁদে না” — এই একটা বাক্য কত মানুষের জীবন নিয়েছে, সেটার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু সংখ্যাটা ছোট না।
— গবেষক Addis & Mahalik (2003)-এর পর্যবেক্ষণ অবলম্বনে
২০২৪ সালের NSDUH জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের ১২.৬ শতাংশ গত বছর গুরুতর আত্মহত্যার চিন্তা করেছেন — প্রাপ্তবয়স্কদের গড় ৫.৫ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি (NIMH)। এই বয়সীদের ৩৩.৮ শতাংশ গত বছর কোনো না কোনো মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৬ সালে এই হার ছিল ২২.১ শতাংশ।
এটা কি উদ্বেগজনক? অবশ্যই। কিন্তু এখানে সতর্কতাও দরকার — এই তথ্যগুলোর বড় অংশ আমেরিকার, এবং gender-বিভাজিত তথ্য সব ক্ষেত্রে সমানভাবে পাওয়া যায় না।
একাকীত্ব: যে মহামারির কথা বলা হয় না
২০২৩ সাল থেকে গবেষকরা একটা শব্দ বেশি ব্যবহার করছেন — “male loneliness epidemic।” কিন্তু তথ্যটা যতটা সরল দেখাচ্ছে, ততটা নয়।
২০২৫ সালের Pew Research Center-এর জরিপে দেখা গেছে, একাকীত্বে লিঙ্গভেদ নেই বললেই চলে — ১৬ শতাংশ পুরুষ ও ১৫ শতাংশ নারী নিয়মিত একাকীত্ব অনুভব করেন। আমেরিকান ইন্সটিটিউট ফর বয়েজ অ্যান্ড মেন (AIBM)-ও বলছে, সামগ্রিক পরিমাপে পুরুষ ও নারীর পার্থক্য তেমন নেই।

তাহলে “পুরুষের একাকীত্ব মহামারি” কথাটা কি ভুল?
পুরোপুরি ভুল নয় — কারণ সমস্যাটা সংখ্যায় নয়, চরিত্রে। পুরুষদের সামাজিক সম্পর্কের কাঠামো ভিন্ন। তারা সাধারণত ছোট নেটওয়ার্কে থাকেন, এবং প্রায়শই একটি মাত্র সম্পর্কের উপর — প্রেমিক বা স্ত্রী — সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করেন। সেই সম্পর্ক ভাঙলে সামাজিক কাঠামোটাই ভেঙে পড়ে। King’s College London-এর গবেষণা (২০২৩) বলছে, পুরুষরা প্রায়শই একাকীত্ব প্রকাশ করেন রাগ, গুটিয়ে যাওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে — সরাসরি কথা বলে নয়।
[ধর্ম ও পরিচয় — নোট] ২০২৫ সালের তথ্যে (Ryan Berge) প্রথমবারের মতো দেখা গেছে, তরুণ পুরুষরা তরুণ নারীদের তুলনায় সামান্য বেশি ধার্মিক — আধুনিক জরিপের ইতিহাসে এটা একটা বিরল উল্টো প্রবণতা। গবেষকরা মনে করছেন, এটা মূলত কমিউনিটি ও কাঠামোর কারনে হচ্ছে।
পরিচয়ের শূন্যতা: মনোবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে
এখানেই প্রশ্নটা জটিল হয়। সংকটের শিকড় কি আসলে মনোবৈজ্ঞানিক?
বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়জুড়ে পুরুষের পরিচয় গড়ে উঠত মুলুত তিনটি স্তম্ভের উপর: পরিবারের রুজি জোগানো, শারীরিক শ্রম, এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব। কিন্তু বর্তমানে এই তিনটাই এখন হয় দুর্বল, নয়ত বিতর্কিত। নারীবাদী আন্দোলন এই কাঠামোটা ভাঙার ক্ষেত্রে সঠিক ছিল — কারণ এটা নারীদের দমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে পুরুষের জন্য কোনো নতুন পরিচয়-কাঠামো তৈরি হয়নি। যার কারণে পুরুষরাও পিছিয়ে পরছে।
বার্তাটা পরিস্কার ছিল: “পুরনো পথ ভুল ছিল। এখন নতুন পথ আসেছে। নিজেই ভালো কিছু খুঁজে নাও।” অনেকে খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু অনেকে পাননি।

এই শূন্যতায় দুটো বয়ান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রথমটি বলছে: সংবেদনশীল হও, পুরুষতন্ত্র ছাড়ো, সুবিধার কথা স্বীকার করো। এটা নৈতিকভাবে সুচিন্তিত, কিন্তু মূলত বলছে তুমি কী হবে না হবে সেটা তোমার বাপার। কিন্তু পথ আমি তমাকে দেখাবো না। । দ্বিতীয়টি — manosphere, Andrew Tate, Jordan Peterson-এর দুনিয়া — বলছে: আধিপত্য ফিরিয়ে নাও, প্রতিযোগিতায় জয়ী হও। এটা প্রায়শই বিষাক্ত এবং তথ্যবিকৃত। কিন্তু এটা অন্তত একটা ইতিবাচক ছবি দিচ্ছে। যার ফলে পরুষরা এখন নিজেই নিজের সিধান্ত নিচ্ছে। তারা নিজেদের ভুমিকা বুজতে পেরেছে এবং সেখান থেকে অনেকে উঠে আসছে। যদিও manosphere কনটেন্ট এর ২তা ভাগ রয়েছে। একভাগ পুরুষদের বলছে সেলফ ইম্প্রভমেনট নিতে, জিম করতে এবং একি সাথে আরেক ভাগ নারীদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ান থেকে শুরু করে তাদের মানহানি করে। এ কারনে পুরুষরা যারা অন্ধভাবে এদের বিশ্বাস করে, তাদের মধ্যে নারীদের নিয়ে বেশ বড় একটা হীনমন্যতা দেখা দেয়। আর করোনা মহামারীর পরে মুলুত manosphere কনটেন্ট গুলো সামনে আসতে থাকে।
এইখানে মনোবৈজ্ঞানিক প্রশ্নটা আসে: পরিচয় সংকট কি তখনই তীব্র হয় যখন একটি সামাজিক ভূমিকা হারিয়ে যায়, কিন্তু তার বিকল্প কিছু দেওয়া হয় না? IJRPR (২০২৫)-এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, পরিচয় সংকট “বিভ্রান্তি, আত্ম-সন্দেহ, সিদ্ধান্তহীনতা এবং মানসিক কষ্ট” তৈরি করে।
[চিকিৎসা প্রসঙ্গ] NIH-তে প্রকাশিত গবেষণা (২০২৫) বলছে, মার্কিন পুরুষদের মধ্যে ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের রক্তে testosterone মাত্রা ১৯৯৯ থেকে ২০১৬-র মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, খারাপ খাদ্যাভ্যাস এবং আসীন জীবনযাপন এর পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত। এই শারীরিক পরিবর্তন কি মানসিক দুর্বলতাকে আরও তীব্র করে? গবেষকরা বলছেন, সম্ভবত হ্যাঁ — তবে কার্যকারণ সম্পর্কটা এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।
রাজনীতিতে এর প্রতিফলন
এখানে কিছু কথা বলার দরকার। কেননা আজকের পুরুষদের এ অবস্থানের জন্য রাজনীতিও দায়ি। ২০২৪-এর মার্কিন নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৫৬ শতাংশ ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন — ২০২০ সালে একই বয়সীরা বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন প্রায় একই হারে। ১৯৮৮-এর পর এই প্রথমবার তরুণ পুরুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রিপাবলিকান পক্ষে গেছে।
কিন্তু এটাকে সহজ উপসংহারে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। Survey Center on American Life জানাচ্ছে, তরুণ পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ রাজনৈতিক পরিচয় এখনো “মধ্যপন্থী” — রক্ষণশীল নয়। আর Young Men Research Project (২০২৫) দেখিয়েছে, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৫ থেকে ৮ শতাংশ তরুণ পুরুষ অভিষেকের কয়েক মাসের মধ্যেই মনোভাব বদলে ফেলেছেন।
তার মানে, এই রাজনৈতিক সরণ কোনো গভীর আদর্শগত রূপান্তর নয়। এটা সম্ভবত একটা সংকেত — যে তরুণ পুরুষরা কোথাও উত্তর খুঁজছেন, এবং মূলধারার রাজনীতি সেটা দিতে পারছে না।
তিনটি ব্যাখ্যা, তিনটি সীমাবদ্ধতা
রক্ষণশীল পাঠ
রক্ষণশীল পাঠ বলছে: নারীবাদ পুরুষের ভূমিকা কেড়ে নিয়েছে, বিকল্প দেয়নি। শিক্ষাব্যবস্থা ছেলেদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এই বয়ানের শক্তি হলো তার তথ্যনিষ্ঠা। দুর্বলতা হলো — ঐতিহ্যবাহী পুরুষতার যে ক্ষতিকর দিকগুলো আছে, সেটা এড়িয়ে যায়।
প্রগতিশীল পাঠ
“Toxic masculinity” নিজেই সমস্যা — ছেলেরা আবেগ প্রকাশ করতে শেখেনি বলেই এই পরিণতি। এই বয়ানের শক্তি হলো এর মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি। দুর্বলতা হলো — ছেলেদের জন্য একটা ইতিবাচক পরিচয়ের ছবি দেয় না।
Empirical পাঠ
তৃতীয় পাঠটা উভয়কে সন্দেহের চোখে দেখে এবং শুধু তথ্যে আস্থা রাখে। শিক্ষার ফাঁক বাস্তব। আত্মহত্যার পার্থক্য বাস্তব। একাকীত্বের গুণগত পার্থক্য সম্ভবত বাস্তব। কিন্তু সব কিছুর কারণ একটাই — এমন দাবি করা বাড়াবাড়ি।
পুরুষের সংকট এবং নারীর সমতা — এই দুটো বিরোধী নয়। দুটোই এমন একটা সামাজিক ব্যবস্থার পরিণতি যেটা এখনো মানুষকে লিঙ্গ-নিরপেক্ষভাবে সেবা দিতে শেখেনি।
অনলাইন বাস্তবতা: সমস্যার এবং সমাধানের
Manosphere তৈরি করেনি সংকট — কিন্তু সংকটটাকে সে একটা নির্দিষ্ট আকার দিয়েছে। Andrew Tate-এর মতো ব্যক্তিত্ব লক্ষ লক্ষ তরুণ পুরুষকে টানছেন — কারণ তারা হতাশার একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। ব্যাখ্যাটা প্রায়ই ভুল, প্রায়ই বিষাক্ত। কিন্তু ব্যাখ্যা না পেলে মানুষ যেকোনো ব্যাখ্যাতেই ঝুঁকে পড়ে। ফলে তাদের কাছে সে ব্যাখ্যাটা কাজ করছে। অনেকে সে ব্যাখ্যার থেকে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন এবং সময়ের সাথে সাথে নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন।

একই সময়ে, একটা পাল্টা স্রোতও আছে। Reddit, YouTube, TikTok-এ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। ManKind Project — ২৭টিরও বেশি দেশে — পুরুষদের “মানসিকভাবে পরিপক্ব, সহানুভূতিশীল এবং উদ্দেশ্যমুখী” হতে সাহায্য করছে। Heare Brotherhood-এর মতো সংগঠন একাকীত্ব কমাতে কাজ করছে।
তাহলে সংকটটা কি আসলেই আছে?
হ্যাঁ — তবে সংকটটা একক নয়। এটা একটা যুগপৎ চাপের সমষ্টি। শিক্ষায়, মানসিক স্বাস্থ্যে, সামাজিক সংযোগে এবং পরিচয়ের কাঠামোয় — প্রতিটি জায়গায় আলাদা আলাদাভাবে চাপ তৈরি হয়েছে। একটা একক কারণ নেই, একটা একক সমাধানও নেই।
মনোবৈজ্ঞানিক কিনা? অনেকাংশে হ্যাঁ — কারণ পরিচয় গঠনের প্রক্রিয়াটাই মনোবৈজ্ঞানিক। কিন্তু সেটাকে নিছক মানসিক দুর্বলতা বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল হবে, কারণ কাঠামোগত কারণগুলো সমানভাবে সক্রিয়।

এই লেখাটা কোনো রায় দিতে বসেনি। বরং এটা বলতে চেয়েছে — প্রশ্নটাকে রাজনৈতিক দলের ব্যাজ হিসেবে ব্যবহার না করে, তথ্যের কাছে ফিরে আসা দরকার। তরুণ পুরুষরা যদি সত্যিই সংকটে থাকে, তাহলে তাদের সাহায্য করা দরকার — কারণ তারা পুরুষ বলে নয়, কারণ তারা মানুষ।
এবং যদি সংকটটা অতিরঞ্জিত হয়ে থাকে — সেটা প্রমাণ করতেও তথ্য লাগবে। রাগ নয়।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন (References)
AFSP Suicide Statistics (2025)
NIMH Suicide Data – 2024 NSDUH
Frontiers in Digital Health: Young Males in Crisis (2025)
American Institute for Boys and Men: Male Loneliness Report (2025)
IJRPR: Impact of Identity Crisis on Young Adult Wellbeing (2025)
King’s College London / Sociology Guy: Male Loneliness (2023)
Richard Reeves, Of Boys and Men (2022) — Brookings/Swift Press
Survey Center on American Life: Young Men and Political Identity (2025)
SAMHSA: 2024 National Survey on Drug Use and Health (NSDUH)
আরও পড়ুনঃ Motivation Industry: অনুপ্রেরণার নামে যে ফাঁদে পড়ছে তরুণ প্রজন্ম

